ঢাকা: দেশের শতভাগ মানুষকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের আওতায় আনতে প্রচলিত আইন সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বর্তমান ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪’ পরিবর্তন করে দেশের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে এই নিবন্ধনের আইনি দায়িত্ব দেওয়া জরুরি। এটি করা গেলে দেশের প্রায় ৬৭ শতাংশ শিশুকে জন্মের পরপরই সহজেই নিবন্ধিত করা সম্ভব হবে।
বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর বিএমএ ভবনে আয়োজিত এক মিডিয়া ওয়ার্কশপে এসব তথ্য ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
“বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন: অগ্রগতি, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়” শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘প্রজ্ঞা’ (প্রগতির জন্য জ্ঞান)। এতে সহযোগিতা করেছে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)।
কর্মশালায় জানানো হয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উত্তরাধিকার ও ভোটাধিকারের মতো মৌলিক নাগরিক অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি রাষ্ট্রের সঠিক পরিকল্পনা ও বাজেট প্রণয়নে নিবন্ধন ডাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ বাংলাদেশে বর্তমানে জন্ম নিবন্ধনের হার মাত্র ৫০ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৪৭ শতাংশ, যা বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক গড়ের তুলনায় বেশ পেছনে। অথচ ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার শতভাগে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার রয়েছে সরকারের। এছাড়া টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ১৬.৯ অনুযায়ী সবার জন্য আইনি পরিচয় নিশ্চিত করতেও এই নিবন্ধন জরুরি।
বক্তারা উল্লেখ করেন, বিদ্যমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী তথ্য দেওয়ার মূল দায়ভার কেবল পরিবারের ওপর রাখা হয়েছে, যেখানে স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। অথচ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অনেক দেশ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রকে যুক্ত করেই শতভাগ নিবন্ধনের লক্ষ্য পূরণ করেছে।
ওয়ার্কশপে জিএইচএআই-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, “শতভাগ নিবন্ধনের মাইলফলক ছুঁতে হলে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে আইনি কাঠামোর আওতায় নিবন্ধনের দায়িত্ব দিতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।”
আইন প্রয়োগের চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস-এর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “শুধু আইন শক্তিশালী করলেই হবে না, সেটির বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে এই খাতে জনবল সংকট, কারিগরি সীমাবদ্ধতা ও বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়হীনতা বড় বাধা, যা দ্রুত দূর করা প্রয়োজন।”
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ-এর হেড অব অনলাইন (বাংলা) মো. মনির হোসেন লিটন বলেন, “নিবন্ধন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ কী ধরনের ভোগান্তিতে পড়ছেন এবং ব্যবস্থার কোথায় দুর্বলতা আছে—তা নিয়ে সাংবাদিকদের নিয়মিত লিখতে হবে। এই ধরনের প্রতিবেদন নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে ইতিবাচক চাপ তৈরি করে।”
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের এবং বিষয়ভিত্তিক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের কোঅর্ডিনেটর মাশিয়াত আবেদিন। কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের ৩০ জন সাংবাদিক অংশ নেন।