Sunday 30 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

‘আমরা অল্পের জন্য বেঁচে গেছি’- ত্রিশুলি স্কুলের শিক্ষার্থী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩০ আগস্ট ২০২৬ ১৮:৫১ | আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৪০

বাবা মায়ের সঙ্গে ইউনিশা। ছবি: বিবিসি।

নেপালের নুয়াকোটের ত্রিভুবন ত্রিশুলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদির বুদ্ধিতে বেঁচে যাওয়া ৯০০ শিক্ষার্থীদের একজন ১৬ বছর বয়সী ইউনিশা। রোববার (৩০ আগস্ট) বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সে জানায় বন্যার ঠিক কয়েক মুহূর্ত আগে সে রক্ষা পায়।

সে বিবিসিকে বলে, ‘আমি আমার বন্ধুদের সঙ্গে মাত্র ১০ সেকেন্ডের ব্যবধানে বেঁচে গেছি।’

ইউনিশা বর্ণনা করে, কীভাবে সে অন্য ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে স্কুলের পেছনের একটি সরু ও কর্দমাক্ত পথ ধরে দৌড়াচ্ছিল। সে আরও বলে, ‘কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার চোখের সামনে বাজারটা ভেসে গেল।’

ইউনিশার মা সাবিনা শ্রেষ্ঠা বিবিসিকে জানান, বন্যার খবর শোনার পর পরিবারটি ঘণ্টার পর ঘণ্টা মরিয়া হয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিল। তিনি বলেন,‘আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। আমি আমার মেয়ে এবং তার বাবাকে একাধিকবার ফোন করার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু দুজনের কারোর সঙ্গেই যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না।’

বিজ্ঞাপন

অবশেষে যখন ইউনিশার সঙ্গে যোগাযোগ হয় তখন কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন শ্রেষ্ঠা। কিন্তু তিন দিন পর ইউনিশা বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত পরিবারটি উদ্বিগ্নই ছিল।

তিনি বলেন, ‘আমি খুব খুশি এবং স্বস্তিতে আছি। ঈশ্বর আমার মেয়েকে বাঁচিয়েছেন।’

ত্রিভুবন ত্রিশুলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি। ছবি: বিবিসি

রোববার রাজেন্দ্র দাওয়াদির একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে বৃটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।

গত ২৬ আগস্ট দাওয়াদি হঠাৎ একটি ফোনকল পান এবং তিনি জানতে পারেন নদীর উজানের জনপদ বেত্রাবতী এরইমধ্যে বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।

রাজেন্দ্র দাওয়াদি বিবিসিকে জানান, তিনি দুর্যোগের খবর পেয়েছিলেন এবং মাত্র কয়েক মিনিট বাকি থাকতেই শিক্ষার্থীদের উঁচু জায়গায় সরিয়ে নিয়েছিলেন।

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এই প্রধান শিক্ষক জানান, তিনি কয়েক মিনিটের মধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে চারটি সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন। তার বিদ্যালয়ে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১৬০০-এর কিছু বেশি।

তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে আর দেরি করা উচিত নয়। বন্যা না এলেও, এটা তো মাত্র একদিনের ক্লাসের ব্যাপার ছিল।’

উঁচু জায়গায় সরে যাওয়ার সময় দাওয়াদি দেখতে পান, নদী থেকে প্রায় ১০০ মিটার (৩২৮ ফুট) দূরে একটি ছাত্রাবাস ভবন বন্যার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।

দাওয়াদি বলেন, ‘আমরা যদি সিদ্ধান্তটি ১০ মিনিট পরে নিতাম, তাহলে ছাত্রছাত্রী ও আমিসহ আমরা কেউই আজ আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে পারতাম না।’

 

 

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর