Monday 31 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রথম বৈঠক আজ

ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট
৩১ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৫৫

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠকে বসছেন।

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) ইস্তাম্বুলে বৈঠকে বসছেন। চলতি মাসে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এটি প্রথম কমিটি বৈঠক।

রোববার (৩০ আগস্ট) তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাতে রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে।

গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’-এর মাধ্যমে তিন দেশ পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নেয়। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বিষয়টি ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা আর্টিকেল ৫-এর সঙ্গে তুলনীয়।

বিজ্ঞাপন

ইস্তাম্বুলের বৈঠকে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সেনাপ্রধানরা অংশ নেবেন। বৈঠকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, সামরিক বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও আন্তঃকার্যক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া যৌথভাবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ও নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নের বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে বলে জানিয়েছে তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা, ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে তিন দেশ নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করতে চাইছে।

তুরস্কের রয়েছে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে পাকিস্তান পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ এবং সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানিকারক। ফলে তিন দেশের সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

তবে চুক্তিটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে এবং সম্ভাব্য কোনো সামরিক সংঘাতে তিন দেশ কীভাবে সমন্বিতভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ইস্তাম্বুলের প্রথম বৈঠকে এসব বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চুক্তির মাধ্যমে তিন দেশ নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সামরিক বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও আন্তঃকার্যক্ষমতা জোরদার করতে চায়। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উৎপাদন ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পর আলোচনা অচলাবস্থায় রয়েছে। আঞ্চলিক সংঘাত, উত্তেজনা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের এই নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামো মধ্যপ্রাচ্য ও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের কৌশলগত সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। ইস্তাম্বুলের বৈঠকের মাধ্যমে এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাস্তবায়নের প্রথম আনুষ্ঠানিক ধাপ শুরু হচ্ছে।

 

সারাবাংলা/একে/ এএ
বিজ্ঞাপন

আজ ঢাকার বাতাস মাঝারি
৩১ আগস্ট ২০২৬ ১০:৪৪

আরো

সম্পর্কিত খবর