Sunday 05 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আ.লীগের করা আইনেই দলটির বিচার সম্ভব: চিফ প্রসিকিউটর

স্টাফ করেসপন্ডেট
৫ জুলাই ২০২৬ ১৫:৪১ | আপডেট: ৫ জুলাই ২০২৬ ১৭:০৬

প্রেস ব্রিফিংয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম

ঢাকা: আওয়ামী লীগের প্রণয়ন করা আইনেই দলটির বিচার করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, `দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।’

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘দীর্ঘ সময় রাষ্ট্র পরিচালনার সময় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংগঠনের অভিযোগ রয়েছে। দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি বা ঊর্ধ্বতন দায়িত্বের আওতায়ও নানা অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিচার করার আইনি ভিত্তি রয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ দুটিই আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রণীত বা সংশোধিত হয়েছে এবং এসব আইনেই সংগঠনের বিরুদ্ধে বিচার পরিচালনার সুযোগ রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘৪ জুলাই একটি স্মরণসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের কথা বলেছেন।’

তিনি জানান, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন প্রণয়ন করে। পরে ২০১০ সালে ওই আইনের অধীনেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ২০১৩ সালে আইনটি সংশোধন করে ‘অর্গানাইজেশন’ শব্দটি যুক্ত করা হয়, যার মাধ্যমে সংগঠনের বিরুদ্ধেও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘২০০৯ সালে প্রণীত সন্ত্রাসবিরোধী আইনেও ব্যক্তি ছাড়াও কোনো সংগঠনের বিরুদ্ধে বিচার করার বিধান রয়েছে। একই আইনের ১৮ ধারা প্রয়োগ করে ২০২৪ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।’ দল নিষিদ্ধকরণসহ সংশ্লিষ্ট আইনগত কাঠামো আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ই তৈরি ও সংশোধন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩ অনুযায়ী বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে। সেই একই আইনি কাঠামোর আওতায় দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব।’

তিনি অভিযোগ করেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকার দেশে এক ধরনের ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল। এর ফলে জনগণের রাজনৈতিক অধিকার ও স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়েছে।’ এছাড়া ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার অভিযোগ তদন্ত করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় সম্ভাব্য অপরাধের বিষয়েও পৃথক তদন্তের সুযোগ রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাথমিক অভিযোগের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

সারাবাংলা/টিএম/এমএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর