Tuesday 30 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রাজধানীর ১৯ ইন্টারসেকশনে এআই ক্যামেরা চালু: ডিএমপি কমিশনার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩০ জুন ২০২৬ ১৪:০৫ | আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ১৪:৪৩

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

ঢাকা: ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাজধানীতে বর্তমানে ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে এআই-ভিত্তিক ট্রাফিক ক্যামেরা চালু রয়েছে। আগে ১৫টি ইন্টারসেকশনে এআই ক্যামেরা ছিল, আজ আরও চারটি যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জংশনেও এআই ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও ট্রাফিকের ডিসি কার্যালয়ে আয়োজিত ‘তেজগাঁও বিভাগের লেক রোডে এআই ক্যামেরার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, এআই ক্যামেরা ব্যবহার করে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার ট্রাফিক মামলা করা হয়েছে। প্রতিটি মামলার জরিমানার পরিমাণ আলাদা হওয়ায় মোট আদায়ের হালনাগাদ তথ্য ট্রাফিক বিভাগের কাছে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এআই ট্রাফিক প্রসিকিউশন নিয়ে তিনি বলেন, ক্যামেরায় শনাক্ত হওয়া ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শুধু মোবাইলে বার্তা নয়, ডাকযোগেও (বাই পোস্ট) অভিযুক্ত গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের ঠিকানায় প্রসিকিউশনের নোটিশ পাঠানো হয়। একই সঙ্গে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের নির্ধারিত নম্বর থেকেও এসএমএস পাঠানো হয়। এছাড়া বিষয়টি ডিএমপির ট্রাফিক ও ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়।

গাড়ি বিক্রি হলেও মালিকানা পরিবর্তন না করায় নোটিশ পুরোনো মালিকের কাছে যাচ্ছে- এমন প্রশ্নে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৩৮ হাজার সমন ইস্যু করা হয়েছে।

রাজধানীর সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে ডিএমপির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে রাজধানীর সড়ক থেকে সব অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বিষয়ে একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ডিএমপি। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে ডিএমপি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজন সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে। সমন্বিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সুষ্ঠ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিং ও দুর্ঘটনাপ্রবণ পয়েন্টগুলোতে এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ফলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এক অভূতপূর্ব ও দৃশ্যমান উন্নতি সাধিত হয়েছে। এটি চালকদের মধ্যে নির্দিষ্ট লেনে থাকার এবং সিগনাল মেনে চলার একটি ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি করেছে। ডাইভারসন এবং আধুনিক সিগনাল লাইট চালুর এই সমন্বয় ঢাকাকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট সিটিতে রূপান্তরের প্রাথমিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। আমরা এই ধারা বজায় রাখতে এবং ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে আরো কঠোর ও প্রযুক্তি নির্ভর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।

লেক রোডে এআই ক্যামেরা চালুর বিষয়ে তিনি আরও বলেন, গতিসীমা লঙ্ঘন করলে, বিপদজনকভাবে লেন পরিবর্তন করলে, চালক এবং আরোহী হেলমেট বিহীন মোটরসাইকেল চালনা করলে, অবৈধ পার্কিং এবং যানবাহন চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে এআই ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয় নিখুঁতভাবে শনাক্ত করবে এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে মামলা রুজু হবে। যা চালক এবং মালিক পক্ষ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করবেন।

 

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর