Thursday 09 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

১৮ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৯ জুলাই ২০২৬ ১৯:২৪

পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে সড়ক। ফাইল ছবি

ঢাকা: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে ১৮টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন দিন দেশের ১৮ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি প্রধান নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। ফলে নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশের ১০টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে সাঙ্গু নদী বান্দরবান ও দোহাজারী পয়েন্টে, মাতামুহুরী নদী লামা ও চিরিঙ্গা পয়েন্টে, মনু নদী মনু রেলওয়ে ব্রিজ ও মৌলভীবাজার পয়েন্টে, ধলাই নদী কমলগঞ্জ পয়েন্টে, খোয়াই নদী বাল্লাহ ও হবিগঞ্জ পয়েন্টে এবং কুশিয়ারা নদী মারকুলী স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে।

এই নদীগুলোর পানির প্রভাবে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, ফেনী, খাগড়াছড়ি, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামসহ মোট ১৮টি জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি বা অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া ও নদীর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী দুই দিন সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগসহ ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় আরও বৃদ্ধি পেয়ে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে।

একই সময়ে ফেনী, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম জেলার গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া ও হালদা নদীর পানি কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করতে পারে এবং লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভোগাই-কংস নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কোথাও কোথাও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

এ ছাড়া সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার পানি আগামী তিন দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উত্তরাঞ্চলেও পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং আগামী ৭২ ঘণ্টায় লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ও ভারতীয় সীমানায় রেকর্ড পরিমাণ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ২৯৮ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জে ২৬৫ মিলিমিটার, নওগাঁর আত্রাইয়ে ২৬০ মিলিমিটার, বান্দরবানের লামায় ২০৭ মিলিমিটার, বান্দরবানে ১৯৬ মিলিমিটার, মহাদেবপুরে ১৯৩ মিলিমিটার ও বরগুনায় ১৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

একই সময়ে ভারতের মেঘালয়ের মাউকিরওয়াতে ২৪৫ মিলিমিটার এবং চেরাপুঞ্জিতে ২২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, যা দেশের নদীগুলোর পানির প্রবাহকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

সারাবাংলা/এফএন/পিটিএম