ঢাকা: দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট নিরসনে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে অতিদ্রুত ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে চিকিৎসক, নার্স ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের বিপুল সংখ্যক পদ শূন্য রয়েছে। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যমতে, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের অনুমোদিত ৪১ হাজার ৮০৬টি পদের বিপরীতে ৯ হাজার ৪০৭টি পদই শূন্য পড়ে আছে। এছাড়া ৪৯ হাজার ৮৭৯টি নার্স পদের বিপরীতে ৪ হাজার ৫৭৭টি পদ খালি রয়েছে।
মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ৬৫ হাজার ২৩০টি পদের বিপরীতে ১৮ হাজার ৯৪৭টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে পরিবার কল্যাণ সহকারী পদে ৮ হাজার ২৯৩টি এবং পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা পদে ৩ হাজার ১৬১টি পদ ফাঁকা রয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য সহকারী পদে শূন্য পদের সংখ্যা ৬ হাজার ৯৫৩টি এবং সিএইচসিপি পদে ৫৪০টি পদ শূন্য রয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, শূন্য পদে জনবল নিয়োগ সরকারের একটি চলমান প্রক্রিয়া। চিকিৎসকদের সংকট কাটাতে ৪৫তম বিসিএস থেকে ৫০তম বিসিএস পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে সহকারী সার্জন নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া সিনিয়র স্টাফ নার্স ও মিডওয়াইফ নিয়োগের কার্যক্রমও বিপিএসসির মাধ্যমে এগিয়ে চলছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করে শূন্য পদগুলোতে জনবল পদায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।