Wednesday 02 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

‘মিথ্যা তথ্য প্রতিরোধে সরকারিভাবে সমন্বিত ফ্যাক্টচেকিং কাঠামো গঠনের উদ্যোগ’

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:৪৮

সংসদে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

ঢাকা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভুয়া সংবাদ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে সরকারি তথ্যব্যবস্থায় একটি আধুনিক ও সমন্বিত ফ্যাক্টচেকিং কাঠামো গড়ে তোলার বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে উত্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থের পক্ষে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এই তথ্য সংসদকে অবহিত করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদের প্রশ্নোত্তরে নোয়াখালী ও অন্যান্য আসনের একাধিক সংসদ সদস্যের লিখিত অনুসন্ধানের প্রেক্ষিতে এই প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রতিমন্ত্রী জানান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) এরইমধ্যে একটি সার্বক্ষণিক ‘ফ্যাক্টচেকিং ও গুজব প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন করে কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি বলেন, ‘এই কেন্দ্রীয় কমিটির প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় ঢাকার প্রধান কার্যালয়সহ সকল বিভাগীয় শহরের আঞ্চলিক তথ্য অফিসগুলো দিনরাত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর কড়া নজরদারি চালিয়ে আসছে। কোনো প্রকার অপতথ্য বা ভুল ব্যাখ্যা শনাক্ত হওয়ার সাথে সাথেই বস্তুনিষ্ঠ তথ্য নিশ্চিত করে সরকারি ফ্যাক্টচেক বার্তা এবং স্পষ্টীকরণ বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত প্রকাশ করা হচ্ছে।’

মন্ত্রণালয়ের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পিআইবির গবেষণা ও সত্যতা যাচাই ইউনিট ‘বাংলাফ্যাক্ট’ এ পর্যন্ত ৮৬০টি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সক্রিয় নজরদারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ও নাম অপব্যবহার করে পরিচালিত ১৩৭টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, ১৬টি নকল সংবাদ ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চার শতাধিক বিভ্রান্তিকর পেজ ও এক্স অ্যাকাউন্ট সফলভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।’

সাংবাদিকদের আধুনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির তথ্য সংসদে তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অপতথ্য মোকাবিলা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সারাদেশে ব্যাপক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশের ৬৪টি জেলায় কর্মশালা পরিচালনা করে হাজার হাজার সাংবাদিককে ডিজিটাল সাংবাদিকতা, এআই ও ফ্যাক্টচেকিং সংক্রান্ত বিশেষ জ্ঞান প্রদান করা হয়েছে।’ এ ছাড়া বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে একাধিক গুজবের বস্তুনিষ্ঠ সত্যতা যাচাই করে সরকারি বার্তা প্রকাশের মাধ্যমে অনলাইনে সঠিক তথ্য পরিবেশন নিশ্চিত করার কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে বলেও তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর