Wednesday 02 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

‘৫৫ বছরের রেকর্ড বিদ্যুৎ ঘাটতির নেপথ্যে ভুল নীতি ও জ্বালানি সংকট’

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:৫৮

সংসদে বক্তব্য দিচ্ছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

ঢাকা: দেশে সাম্প্রতিক নজিরবিহীন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের জন্য অতীতের ভুল নীতি, কারিগরি বিপর্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতাকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। জাতীয় সংসদে উত্থাপিত তথ্যে প্রকাশ পায়, গত ৯ আগস্ট দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে। উদ্ভূত এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের সাময়িক কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে সরকারের নেওয়া নতুন প্রশাসনিক ও কারিগরি পদক্ষেপের ফলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সারাদেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান উন্নতির আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংসদে সংকট পরিস্থিতির সবিস্তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বর্তমানে ১২ হাজার মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও তার জন্য দৈনিক ১৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংস্থান প্রয়োজন। অথচ বর্তমানে দেশীয় উত্তোলন ও আমদানি মিলিয়ে সর্বসাকুল্যে ২৩০০ থেকে ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে। চাহিদামতো সম্পূর্ণ গ্যাস সরবরাহ করা হলে শিল্পকারখানা ও বাসা-বাড়ির সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করতে হবে, যার ফলে অর্থনীতি রক্ষায় বাধ্য হয়ে ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে।’

জ্বালানি কাঠামোর বিপর্যয় ও কারিগরি ত্রুটির বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র দু’টির গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট হঠাৎ কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংকট তীব্র আকার ধারণ করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আদানির সঙ্গে সম্পাদিত আগের চুক্তি অনুসারে ১৬০০ মেগাওয়াট সরবরাহের কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে ৯০০ ও রাতে ১১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এর পাশাপাশি আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের একটি এফএসআরইউ নষ্ট হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল, যা এরইমধ্যে ৮৮ শতাংশ মেরামত করা সম্ভব হয়েছে।’

ঘাটতি মেটাতে সরকারি আর্থিক ও নীতিগত উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সংকট মোকাবিলায় তেলভিত্তিক পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এরইমধ্যে ৬ হাজার কোটি টাকা দ্রুত ছাড় করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী গ্রীষ্মে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে বাসা-বাড়ি ও বাণিজ্যিক ভবনে রূফটপ সোলার প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারি আমদানির ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ২ শতাংশ উৎস কর মওকুফ করে মাত্র ১ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।’

এ ছাড়া রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধ রাখার সরকারি বিধিনিষেধ পালনে সকল সংসদ সদস্যের পূর্ণ সহায়তা কামনা করে শিগগিরই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর