Tuesday 30 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

শিক্ষাখাতে বাজেটের ২৫ ভাগ বরাদ্দের দাবিতে বিক্ষোভ

ঢাবি করেস্পন্ডেন্ট
৩০ জুন ২০২৬ ২২:৪৭

গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: ‎শিক্ষাখাতে বাজেটের ২৫ ভাগ বরাদ্দের দাবিতে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বেলা সাড়ে ১২ টায় মিছিলটি মধুর ক্যান্টিন থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

‎বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের সহ-সভাপতি নাঈম উদ্দিন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সমর চাকমা, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদ চৌধুরী, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি দিলীপ রায়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জোটের সমন্বয়ক এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী।

বিজ্ঞাপন

সমাবেশে ‎নাঈম উদ্দীন বলেন, ‘কোনো কিছুই শ্রেণি দৃষ্টিভঙ্গির বাহিরে নয়। শিক্ষা সম্পর্কে রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি বদলায় না বলে সরকার বদলালেও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ে না।’

‎সমর চাকমা বলেন, ‘সমতল এবং পাহাড়ের সংখ্যালুঘু শিক্ষার্থীরা বরাবরই শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত, বৈষম্যের শিকার। পার্বত্য চট্টগ্রামে এই বৈষম্যটা আরও বেশি। দুর্গম অঞ্চলের পাহাড়ি শিক্ষার্থীরা আরও প্রাথমিক স্তরেই ঝরে যায়। সরকার শিক্ষাখাতে পর্যাপ্ত বরাদ্ধ না রেখে সামরিক খাতে বাজেট বাড়িয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংখ্যালুঘুদের জাতিগত পরিচয় কেড়ে নিতে ২০১১ সালে ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধীনর আইন পাস করে উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিএনপি সরকার এখনো সে আইন বাতিল করেনি। পাহাড় সমতলে সংখ্যালুঘুদের শিক্ষার বৈষম্য, দমনপীড়ন জারি রেখে বাংলাদেশ কখনো সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে না।’

‎সমাবেশে ফাহিম আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘জাতীয় বাজেটের প্রধান অর্থদাতা দেশের সাধারণ জনগণ। পরোক্ষ করের বাইরেও শাসকের ঋণের বোঝা বহন করা নাগরিকরা বাজেট নিয়ে মতামত দেওয়ার সুযোগ পায় না। এখানে শাসকের উন্নয়ন দর্শন মানে কতিপয় জটিল, দুর্বোধ্য ও অস্বচ্ছ সংখ্যাতত্ত্বের সমাহার।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি সরকার হাওয়া ভবনের সংস্কৃতি থেকে বের হতে পারেনি। বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্যে অগ্রাধিকার না দেওয়া তার লক্ষণ। বর্তমানে জনগণের পক্ষে কোনো বিরোধীদলও নেই৷ দেশের মানুষ লোডশেডিংয়ে কষ্ট পায়, গণবিরোধী মার্কিন চুক্তি হয়ে যায়, শিক্ষা খাতে ২৫ ভাগ বাজেট বরাদ্দ পায় না। এই সংকট নিয়ে কোনো পক্ষই কথা বলে না।’

‎দিলীপ রায় উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশে শিক্ষা খাত বরাবরই অবহেলিত ও উপেক্ষিত থেকেছে। শিক্ষায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষার প্রতিটি স্তর নানারকম সংকট মোকাবিলা করছে। শিক্ষার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ফলে শিক্ষার ব্যয়ভার বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং গরিব-নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানরা শিক্ষার অধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হচ্ছে।’

‎সভাপতির বক্তব্যে সালমান সিদ্দিকী বলেন, ‘ইউনেস্কো ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংস্থাগুলোর সুপারিশ অনুযায়ী, উন্নয়নশীল দেশে বাজেটের অন্তত ২৫ শতাংশ বা জিডিপির ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করা উচিত । এশিয়ার অধিকাংশ দেশ বাংলাদেশের তুলনায় জিডিপির অনুপাতে অনেক বেশি বরাদ্দ দিয়ে থাকে। নগণ্য বরাদ্দের কারণে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিং আজ তলানিতে। লাইব্রেরিতে নেই আধুনিক রেফারেন্স বই, ল্যাবরেটরিতে নেই প্রয়োজনীয় রাসায়নিক ও যন্ত্রপাতি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত আবাসন ও পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা রাষ্ট্র যথাযথভাবে দিতে পারছে না। এ জরাজীর্ণ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে বাজেটের ২৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।’

‎সমাবেশে নেতারা মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।

সারাবাংলা/কেকে/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর