Tuesday 01 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

আন্দোলন থেকে সরকারে / ৬ মাসে কতটা বদলেছে বিএনপি?

মো. মহসিন হোসেন স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:৪৪

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। ফাইল ছবি

ঢাকা: দীর্ঘ আন্দোলন, মামলা-হামলা, গ্রেফতার ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার পথ পেরিয়ে ক্ষমতায় ফেরার পর ছয় মাস পার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে দলটি। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। ছয় মাসের মাথায় এসে তাই স্বাভাবিকভাবেই সামনে এসেছে একটি বড় প্রশ্ন—বিরোধী দল ও আন্দোলনের রাজনীতি থেকে রাষ্ট্র পরিচালনায় এসে বিএনপি কতটা বদলেছে?

এই ছয় মাসের মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, বিএনপির রাজনৈতিক ভাষা ও প্রশাসনিক আচরণে পরিবর্তনের চেষ্টা স্পষ্ট। দীর্ঘদিনের আন্দোলননির্ভর দলটি এখন রাষ্ট্রের অর্থনীতি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, কূটনীতি, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। তবে প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ব্যবধানও কম নয়।

বিজ্ঞাপন

সরকারের নিজস্ব মূল্যায়নে প্রথম ১৮০ দিনে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানো, সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একাধিক উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশিত নথিতেও এসব উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

তবে সরকারের বাইরে থাকা বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন তুলনামূলকভাবে সতর্ক। কারও মতে, কিছু সূচকে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা গেলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় তার সুফল এখনো যথেষ্ট দৃশ্যমান নয়। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবায়নের গতি প্রত্যাশার তুলনায় ধীর।

আন্দোলনের বিএনপি বনাম সরকারের বিএনপি

বিএনপির সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি সম্ভবত এখানেই—দলের সামনে এখন আর শুধু ‘সরকারের বিরুদ্ধে’ কথা বলার সুযোগ নেই; বরং প্রতিদিন তাকে ‘সরকার হিসেবে’ সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির রাজনীতির বড় অংশজুড়ে ছিল নির্বাচন, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, নিরপেক্ষ নির্বাচন, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলন। ক্ষমতায় এসে সেই দলকেই এখন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের দায় নিতে হচ্ছে। আগে যে আমলাতন্ত্র, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া হতো, এখন সেসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব সরকারের।

এখানেই বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা—আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়ে জনসমর্থন তৈরি করা আর রাষ্ট্র পরিচালনা করে সেই জনসমর্থন ধরে রাখা এক বিষয় নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার আগেই অর্থনীতি, সুশাসন ও আইনশৃঙ্খলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছিলেন। ছয় মাসে সরকারের কার্যক্রমেও এই তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে।

৩১ দফা এখন বাস্তবায়নের পরীক্ষায়

বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলনের অন্যতম ভিত্তি ছিল ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি। বিরোধী অবস্থানে থেকে দলটি রাষ্ট্রকাঠামো, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সেই ৩১ দফাই দলের জন্য একধরনের রাজনৈতিক ‘অ্যাসিড টেস্ট’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ছয় মাসের মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, কিছু ক্ষেত্রে উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিএনপির ঘোষিত সংস্কারের সবকিছু এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। বিশেষ করে গণমাধ্যম সংস্কারের জন্য প্রস্তাবিত মিডিয়া কমিশন এখনো গঠিত না হওয়াকে সরকারের সংস্কার প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে একটি অপূর্ণতা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্দোলনের সময় যে সংস্কার ছিল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, ক্ষমতায় এসে সেটিই এখন বাস্তবায়নের কঠিন প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া।

‘আইনশৃঙ্খলা’ সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা

বিএনপি সরকারের জন্য সবচেয়ে স্পর্শকাতর ক্ষেত্রগুলোর একটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। আন্দোলনের সময় বিএনপি বারবার রাজনৈতিক হয়রানি, গুম, বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহির কথা বলেছে।

ক্ষমতায় এসে সরকার পুলিশকে ‘জনবান্ধব’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি দাবি করেছেন, সরকারের ছয় মাসে দায়ের হওয়া প্রায় সব ফৌজদারি মামলার আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। সরকারের পক্ষে আরও দাবি করা হয়েছে, প্রথম ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা ও জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে।

কিন্তু এখানেই সরকারের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকিও সবচেয়ে বেশি। কারণ, বিরোধী অবস্থানে বিএনপি যে মানদণ্ডে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও পুলিশি কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছে, ক্ষমতায় এসে একই ধরনের অভিযোগ উঠলে তার রাজনৈতিক অভিঘাত হবে বহুগুণ বেশি।

অর্থনীতি: কিছু আশার আলো, কিন্তু স্বস্তি আসেনি

ক্ষমতা নেওয়ার সময় বিএনপি পেয়েছিল উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল রাজস্ব আহরণ, ব্যাংক খাতের অনিয়ম, বিনিয়োগের স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের সংকট এবং জ্বালানি খাতের চাপের মতো একাধিক সমস্যা। ছয় মাসে অর্থনীতির কিছু সূচকে উন্নতির লক্ষণ দেখা গেলেও এটিকে এখনো শক্তিশালী পুনরুদ্ধার বলা যাচ্ছে না।

সিপিডির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অর্থনীতি এখনো উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল রাজস্ব আহরণ, ব্যাংক খাতের সমস্যা, বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতা ও কর্মসংস্থানের সংকটের মতো চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ছয় মাসের মূল্যায়নে অগ্রগতির চেয়ে উদ্বেগ ও শঙ্কাই বেশি দেখেছেন।

অর্থাৎ সরকারের ভাষ্যে ‘স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রক্রিয়া’ শুরু হলেও মানুষের প্রত্যাশা আরও সরাসরি—বাজারে স্বস্তি, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং আয় বৃদ্ধির বাস্তব ফল।

‘সামাজিক নিরাপত্তায়’ নতুন রাজনৈতিক হিসাব

বিএনপির নির্বাচনমুখী রাজনীতিতে পরিবার ও কৃষককেন্দ্রিক সামাজিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষমতায় এসে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং নিম্নআয়ের মানুষের সহায়তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এখানে সরকারের একটি বড় রাজনৈতিক লক্ষ্য স্পষ্ট— সামাজিক নিরাপত্তাকে শুধু ভাতা হিসেবে নয়, রাজনৈতিকভাবে দৃশ্যমান জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

এটি বিএনপির পুরোনো আন্দোলনকেন্দ্রিক রাজনীতির তুলনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। কারণ, বিরোধী অবস্থানে দলটির প্রধান রাজনৈতিক শক্তি ছিল সরকারবিরোধী আন্দোলন; এখন সেই শক্তিকে সরকার পরিচালনার ইতিবাচক কর্মসূচিতে রূপান্তর করাই মূল চ্যালেঞ্জ।

জ্বালানি ও প্রশাসনে এখনো অস্বস্তি

অর্থনীতি ও সামাজিক কর্মসূচিতে কিছু অগ্রগতির দাবি থাকলেও জ্বালানি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ রয়ে গেছে। বিভিন্ন বিশ্লেষণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটকে শিল্প উৎপাদন ও সাধারণ মানুষের জীবনে চাপের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও সরকারকে গতি বাড়াতে হচ্ছে। আমলাতন্ত্রের দীর্ঘসূত্রতা, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ধীরগতি এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের প্রশ্ন ছয় মাসের মূল্যায়নে সামনে এসেছে।

এখানে বিএনপির জন্য আরেকটি পরিবর্তনের জায়গা হলো—দলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে এখন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে। আন্দোলনের মঞ্চে যে সিদ্ধান্ত কয়েক মিনিটে ঘোষণা করা যায়, সরকারে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আইন, বিধি, বাজেট, আমলাতন্ত্র ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় প্রয়োজন।

দল ও সরকারের দূরত্ব কতটা?

ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির সামনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—দল ও রাষ্ট্রের মধ্যে প্রয়োজনীয় দূরত্ব কতটা বজায় রাখা যাচ্ছে?

দীর্ঘদিন বিরোধী রাজনীতিতে থাকা একটি দলের জন্য এটি সহজ নয়। হাজার হাজার নেতা-কর্মী দীর্ঘদিন আন্দোলনে ছিলেন। তাদের অনেকের প্রত্যাশা ছিল ক্ষমতায় এলে রাজনৈতিকভাবে মূল্যায়ন হবে। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনায় দলীয় প্রত্যাশা ও প্রশাসনিক প্রয়োজন সবসময় এক নয়।

এ কারণেই সরকারের প্রথম ছয় মাসে দলীয় সংগঠন ও সরকারে পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় রদবদলও হয়েছে। আরও বড় ধরনের সরকার ও দলীয় পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে। এটি শুধু ব্যক্তি বদলের বিষয় নয়; বরং বিএনপি সরকার বুঝতে পারছে যে, আন্দোলনের সময়কার সাংগঠনিক কাঠামো দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যাবে না।

রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল: দলের অভিজ্ঞ নেতৃত্বের নতুন ভূমিকা

ছয় মাসের সময়সীমায় বিএনপির রাজনৈতিক রূপান্তরের আরেকটি বড় ঘটনা দলের দীর্ঘ সময়ের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া। দীর্ঘদিনের মহাসচিব থেকে দেশের রাষ্ট্রপতি হওয়া বিএনপির জন্য প্রতীকীভাবেও গুরুত্বপূর্ণ।

এর ফলে বিএনপির অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যেও নতুন মাত্রা তৈরি হয়েছে। একদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার, অন্যদিকে দলের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ নেতা মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রের সাংবিধানিক শীর্ষ পদে—এটি বিএনপির রাজনৈতিক যাত্রায় একটি নতুন অধ্যায়।

বিদেশনীতি: আন্দোলনের মিত্রতা থেকে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ

বিরোধী অবস্থানে বিএনপির পররাষ্ট্রনীতির বক্তব্য ছিল অনেকটাই রাজনৈতিক প্রতিরোধের ভাষায়। ক্ষমতায় এসে সেটি বদলে হয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও কূটনৈতিক ভারসাম্যের প্রশ্ন।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ তার একটি উদাহরণ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়টি নিয়েও ঢাকা-দিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন রয়েছে।

ছয় মাসে তাহলে কতটা বদলেছে বিএনপি?

সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, বিএনপি বদলেছে—তবে রূপান্তর এখনো অসম্পূর্ণ। আন্দোলনের বিএনপি ছিল মূলত প্রতিবাদ, দাবি ও রাজনৈতিক মবিলাইজেশনের বিএনপি। সরকারের বিএনপি এখন সিদ্ধান্ত, বাস্তবায়ন, বাজেট, প্রশাসন ও ফলাফলের বিএনপি। এই দুই চরিত্রের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে।

সরকারের কর্মকাণ্ডে জনকল্যাণ, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক সংস্কারের ওপর জোর দেখা যাচ্ছে। কিন্তু একই সঙ্গে অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি এখনো পুরোপুরি আসেনি, জ্বালানি সংকট রয়ে গেছে, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন আছে এবং বিএনপির বহু সংস্কার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। এ কারণেই ছয় মাসের বিএনপিকে এক কথায় ‘সফল’ বা ‘ব্যর্থ’ বলার সুযোগ নেই। বরং এই সময়টি ছিল পরিবর্তনের প্রস্তুতিপর্ব।

সামনে আসল পরীক্ষা

ছয় মাসে সরকার যে জায়গায় পৌঁছেছে, আগামী ছয় মাসে তার ফলাফল আরও স্পষ্ট হওয়ার কথা। মূল্যস্ফীতি কমানো, কর্মসংস্থান বাড়ানো, বিনিয়োগ ফেরানো, ব্যাংক খাতকে স্থিতিশীল করা, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং প্রতিশ্রুত রাজনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়ন—এসব ক্ষেত্রেই বিএনপিকে এখন দৃশ্যমান ফল দেখাতে হবে।

কারণ আন্দোলনের সময় বিএনপির কাছে সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল ‘পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি’। ক্ষমতায় এসে সেই পরিবর্তন বাস্তবে কতটা মানুষের জীবনে পৌঁছাল— সেটিই এখন দলের জনপ্রিয়তার আসল মাপকাঠি।

জানতে চাইলে দলের যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, লুটপাটের ধ্বংসস্তুপের মধ্যে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা যোগ হয়েছে। বিএনপির কাছে দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক। বিএনপি সব সময় জনগণের হয়ে কাজ করেছে। এখনও তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিন-রাত নিরলস পরিশ্রম করছেন। তার টার্গেট দেশটাকে টেনে তুলে সামনের দিকে নিয়ে যাওয়া। আশা করি, আমরা সেদিকে যেতে পারব।’

বিজ্ঞাপন

পুলিশের শীর্ষ ৬ কর্মকর্তার রদবদল
১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:৩৬

আরো

মো. মহসিন হোসেন - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর