Wednesday 01 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ছুটি শেষে টার্মিনাল ও স্টেশনগুলোতে ঢাকামুখী মানুষের ঢল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৮ মার্চ ২০২৬ ১২:৫২ | আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ ১৫:৪৯

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকা ফেরত মানুষের ঢল। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: দীর্ঘ ঈদ ছুটি ও টানা সাপ্তাহিক বন্ধ শেষে রোববার (২৯ মার্চ) থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুরোদমে চালু হতে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন বাস টার্মিনাল, রেলওয়ে স্টেশনে রাজধানী ঢাকামুখী মানুষের চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফেরা যাত্রীদের নৌপথ, সড়কপথ ও রেলপথ সবখানেই ছিল উপচে পড়া ভিড়।

রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে ছিল অতিরিক্ত ভিড়। অনেক যাত্রী গাদাগাদি করে যাত্রা করেছেন। ঘাট এলাকায় নেমে আবার নতুন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। পর্যাপ্ত যানবাহনের অভাবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে বাসের জন্য।

বিজ্ঞাপন

পদ্মা ও যমুনা পাড়ি দিয়ে পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে পৌঁছানো যাত্রীরা জানান, পরিবহন সংকটের কারণে তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ সুযোগে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগও তুলেছেন তারা। যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে যেখানে পাটুরিয়া থেকে নবীনগর পর্যন্ত বাসভাড়া ১২০ টাকা, সেখানে বর্তমানে নেওয়া হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। একইভাবে পাটুরিয়া থেকে গাবতলী রুটে ১৮৫ টাকার ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়। ভাড়া নিয়ে প্রতিবাদ করলে অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

রেলপথেও ছিল একই চিত্র। কমলাপুর রেলস্টেশনে সকাল থেকেই ট্রেনভর্তি যাত্রীদের ঢল নামে। নির্ধারিত আসনের বাইরে দাঁড়িয়ে কিংবা ঝুঁকি নিয়ে ছাদে চড়েও অনেকে ঢাকায় ফিরেছেন। যদিও যাত্রীদের মতে, আগের বছরের তুলনায় কিছুটা শৃঙ্খলা থাকলেও ভিড়ের চাপ কমেনি।

ঢাকায় ফেরা যাত্রী সাঈদ বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফিরতে গিয়ে বেশ কষ্ট পোহাতে হয়েছে। ট্রেনে ওঠার সময় ধাক্কাধাক্কি, বসার জায়গা না পাওয়া—সব মিলিয়ে দুর্ভোগ ছিল। তবে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা আগের চেয়ে কিছুটা ভালো হওয়ায় নিরাপদে পৌঁছাতে পেরেছেন এটাই স্বস্তির।

অন্যদিকে গাবতলী বাস টার্মিনালসহ রাজধানীর অন্যান্য টার্মিনালেও একই দৃশ্য দেখা গেছে। দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বাসগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। বাস থেকে নামার পর যাত্রীরা দ্রুত নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে গণপরিবহন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিংবা রাইড শেয়ারিং সেবার খোঁজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
টার্মিনাল এলাকায় দেখা যায়, দূরপাল্লার বাস এলেই যাত্রীদের ঘিরে ধরছেন স্থানীয় পরিবহনচালকরা। গন্তব্য জেনে দরকষাকষির মাধ্যমে যাত্রী তুলছেন তারা। এতে করে টার্মিনাল এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে সাময়িক বিশৃঙ্খলা ও ভিড়।

তবে ইতিবাচক দিক হলো ফেরার পথে মহাসড়কে বড় ধরনের যানজটের মুখে পড়তে হয়নি যাত্রীদের। অনেকেই তুলনামূলক কম সময়ে ঢাকায় পৌঁছাতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ঈদ উপলক্ষ্যে টানা সাত দিনের ছুটি শেষে গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকেই সীমিত আকারে অফিস কার্যক্রম শুরু হলেও স্বাধীনতা দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে রাজধানী অনেকটাই ফাঁকা ছিল। রোববার থেকে পূর্ণমাত্রায় কর্মচাঞ্চল্য ফিরবে এ কারণেই শনিবার ঢাকামুখী মানুষের এই ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর