Tuesday 30 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ইকরার আত্মহত্যা: রিমান্ড শেষে কারাগারে অভিনেতা জাহের আলভী

স্টাফ করেসপন্ডেট
৩০ জুন ২০২৬ ১৫:৫৫ | আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ১৯:০৩

ইকরা ও অভিনেতা জাহের আলভী – সংগৃহীত ফাইল ছবি

ঢাকা: ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসা থেকে স্ত্রী ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় ছোট পর্দার অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূইয়া, যিনি জাহের আলভী নামে পরিচিত, তাকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবজাল হোসাইন মৃধা জানান, এদিন আলভীর পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি। দুই দিনের রিমান্ড শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদেরও তদন্তের আওতায় আনার আবেদন করেন তারা।

বিজ্ঞাপন

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের মিরপুর জোনাল টিমের পরিদর্শক আব্দুল মালেক আসামিকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ জুন স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আলভীকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তে সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে এবং প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্যও মিলেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ কারণে তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে গত ২৪ জুন আদালত এ মামলায় জাহের আলভীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ১৮ জুন আলভী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান। পরে ডিবি পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। এ মামলার অপর আসামি ও আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলি গত ৪ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তিনি জামিন পান।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১ মার্চ বেলা পৌনে ১২টার দিকে মিরপুরের বাসায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ইকরাকে উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং বাসা থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।

এ ঘটনায় ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ মামলা দায়ের করেন। মামলায় জাহের আলভী ও তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলিকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণে ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে।