ঢাকা: দেশজুড়ে একযোগে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ বিদেশের আটটি কেন্দ্র ছাড়া দেশের সব কেন্দ্রে প্রথম দিনের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। প্রথম দিনে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ২৪ হাজার ৭৮৪ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এর পাশাপাশি অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে মোট ৭ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হলেও কোনো পরীক্ষক বা পরিদর্শক বহিষ্কৃত হননি।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আমিরুল ইসলামের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রথম দিনে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে বাংলা (আবশ্যিক) ১ম পত্র, মাদরাসা বোর্ডের অধীনে কুরআন মাজীদ এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে বাংলা-২ পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৬২০টি কেন্দ্রে অংশ নিয়েছে ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৪ জন। এখানে অনুপস্থিতির সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ২৩৩ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ২.০১ শতাংশ। সাধারণ বোর্ডের অধীনে বহিষ্কৃত ৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে যশোর বোর্ডে ২ জন এবং কুমিল্লা, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ বোর্ডে ১ জন করে পরীক্ষার্থী রয়েছেন। তবে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল বোর্ডে কোনো বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেনি। সাধারণ বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৯৭১ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এছাড়া রাজশাহীতে ২ হাজার ৪৯৭ জন, কুমিল্লায় ১ হাজার ৭৯৫ জন, যশোরে ২ হাজার ৭৮ জন, চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩৪০ জন, সিলেটে ১ হাজার ১২৭ জন, বরিশালে ১ হাজার ৩৪৬ জন, দিনাজপুরে ১ হাজার ৯৩৭ জন এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ১ হাজার ১৮২ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল।
মাদরাসা ও কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষায়ও পরীক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি ও বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কুরআন মাজীদ পরীক্ষায় ৮৫ হাজার ১৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৬০টি কেন্দ্রে ৮০ হাজার ৬৫৩ জন অংশ নেয় এবং ৪ হাজার ৪৭৮ জন অনুপস্থিত ছিল, যেখানে অনুপস্থিতির হার ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। এই বোর্ডে নকলের দায়ে ১ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।
অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা-২ পরীক্ষায় ৮৩ হাজার6৭৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬১১টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় বসে ৮০ হাজার ৬০৩ জন। এখানে অনুপস্থিত ছিল ৩ হাজার ৭৩ জন শিক্ষার্থী, যার শতকরা হার ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং এই বোর্ডেও অসদুপায় অবলম্বনের জন্য ১ জন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়।