ঢাকা: দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো আগামী অক্টোবরের শুরু থেকেই মাঠে গড়াতে পারে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এই লক্ষ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি ও কর্মপরিকল্পনা গোছাতে শুরু করেছে। সেসঙ্গে এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন ভোটারদের অংশ নেওয়ার পথ সুগম করতে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হচ্ছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) নির্বাচন কমিশনের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময়সীমা নিয়ে প্রথমে জুনের শেষ পর্যন্ত ভাবা হলেও পরবর্তীতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সুপারিশে তা আরও এক মাস বাড়ানো হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে যারা এখনো ভোটার হননি, তারা জুলাইয়ের শেষ দিন পর্যন্ত আবেদন করে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।
স্থানীয় সরকার ভোটের নিয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অক্টোবরে এ ভোট শুরু হবে কিনা তা নিশ্চিত নয়। জানান, এ ভোটের পরিকল্পনার বিষয়ে সরকারের নীতিগত মহলের সঙ্গে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা বা চিঠিপত্র আদান-প্রদান হয়নি বলে জানা গেছে।
সেই সঙ্গে তিনি আরও জানান, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) এবং পৌরসভা নির্বাচন পরিচালনায় কমিশনের কোনো আইনি জটিলতা নেই। তবে জেলা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে তৃণমূলের এই দুটি নির্বাচনের ওপর। যেহেতু ইউপি ও পৌরসভার নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই মূলত উপজেলা ও জেলা পরিষদের ভোটার বা সদস্য হন, তাই তৃণমূলের এই দুটি স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন না করে কোনোভাবেই উপজেলা বা জেলা পরিষদের ভোট গ্রহণ সম্ভব নয়।
ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, এরই মধ্যে দেশের প্রায় চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপযোগী হয়ে রয়েছে, যেখানে বাকি অন্য সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশন মূলত কতগুলো ধাপে এই ভোট সম্পন্ন করা হবে এবং এক ধাপ থেকে অন্য ধাপের মধ্যবর্তী বিরতি কতদিন রাখা যৌক্তিক, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে।
ভোটের মাঠের সামগ্রিক প্রস্তুতি নিয়ে ইসি কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, বিশেষ করে ব্যালট পেপারের কাগজ কেনার জন্য সরকারি মুদ্রণালয়ের (বিজি প্রেস) বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনের আচরণবিধিমালা ও ভোট পরিচালনা বিধির খসড়া চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সম্প্রতি এই আচরণবিধির ওপর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাধারণ নাগরিকদের মতামত নেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে, যা এখন পর্যালোচনা করছে কমিশন।
উল্লেখ্য, বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় সার্ভারে মোট ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন ভোটারের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৪৩ জন। আগে প্রতি বছর মার্চ মাসে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের নিয়ম থাকলেও আইনি পরিবর্তনের কারণে কমিশন এখন যেকোনো সময় ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার এখতিয়ার রাখে।