Tuesday 18 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

জুলাইয়ের আত্মত্যাগের মূল্যায়ন হবে, জাতিকে বিভক্ত করা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৪ জুলাই ২০২৬ ১৬:৪৩ | আপডেট: ৪ জুলাই ২০২৬ ২০:০৪

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থান ও গত ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, রাষ্ট্র তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করবে। তবে প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, ন্যায়বিচার ও জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই শহিদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, জাতিকে বিভক্ত করে নয়, বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যেতে হবে।

শনিবার (৪ জুলাই) জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে  ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানে শহিদ পরিবারের সদস্য, আহত জুলাই যোদ্ধা এবং দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের কর্মীদের বক্তব্য তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। তাদের প্রত্যাশার মূল বিষয় ছিল আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন। তিনি বলেন, এই দাবি ন্যায়সঙ্গত এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো তাদের সম্মান ও প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, যদি তিনি তার মা কিংবা প্রয়াত ভাইকে জিজ্ঞাসা করতে পারতেন, তারা প্রতিশোধ চান কি না, তবে তারা নিশ্চয়ই বলতেন দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে সামনে এগিয়ে যেতে। কারণ তাদের সংগ্রামের উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নয়, বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।

তারেক রহমান বলেন, ১৭ বছর আগে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার সময় যেসব সহকর্মীকে সুস্থ অবস্থায় রেখে গিয়েছিলেন, দেশে ফিরে দেখেছেন তাদের অনেকে আর বেঁচে নেই। আবার অনেকে গুম, নির্যাতন ও হামলার শিকার হয়ে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। একইভাবে জুলাই আন্দোলনেও অসংখ্য মানুষ জীবন দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন। তাদের প্রত্যেকের স্বপ্ন ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হবে।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়, এটি দল-মত নির্বিশেষে গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের ফসল। জাতিসংঘের হিসাবে জুলাই আন্দোলনে ৬৫ জন শিশু এবং প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী শুধু জুলাই আন্দোলনেই প্রায় দুই হাজার মানুষ শহিদ হয়েছেন এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন বলে তার ধারণা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহিদদের আত্মত্যাগের মূল্যায়নের পাশাপাশি তাদের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। তবে বিচারের নামে যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি অন্যায়ের শিকার না হন, সে বিষয়েও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, আইনের সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করাই হবে ন্যায়বিচারের প্রকৃত উদাহরণ।

তিনি আরও বলেন, যারা স্বজন হারিয়েছেন কিংবা শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের কষ্ট কোনো কিছু দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্র যত সহযোগিতাই করুক না কেন, হারানো মানুষকে ফিরিয়ে দেওয়া বা হারানো অঙ্গ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। কিন্তু তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যদি দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় এবং একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়, সেটিই হবে তাদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান।

তারেক রহমান বলেন, ব্যক্তিগত কষ্ট, ক্ষোভ ও বেদনার ঊর্ধ্বে উঠে দেশের বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। কারণ বিভক্ত জাতি কখনো উন্নতির পথে এগোতে পারে না। জাতীয় ঐক্যই হবে আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার সবচেয়ে বড় শক্তি।

তিনি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মীর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো দেশের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। তাই আত্মত্যাগের মূল্যায়নের পাশাপাশি এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না, যাতে অন্য কেউ বঞ্চিত হন বা নতুন করে বিভেদ সৃষ্টি হয়।

বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের শহিদ, আহত যোদ্ধা এবং গত ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সব সংগ্রামী মানুষের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে হলে তারা যে লক্ষ্য ও আদর্শ নিয়ে সংগ্রাম করেছেন, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রকে সুসংহত করা এবং একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার মধ্য দিয়েই তাদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা দেওয়া সম্ভব হবে।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন, শহিদ মিরাজের বাবা আব্দুর রব মিয়া, শহিদ সেলিমের ভাই উজ্জল হোসেন, শহিদ আবু সাইদের ভাই আবু হোসেন, ছাত্র দলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র দলের সভাপতি আবু হুরায়রা, কওমী ছাত্র ফোরামের সভাপতি মাওলানা জামিল সিদ্দিকী, আয়োজক সংগঠন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইমন, সাধারণ সম্পাদক আল মিরাজ, শহিদ ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির সভাপতি গোলাম রহমান ও সাধারণ সম্পাদক রবিউল আওয়াল, শহিদ শাহরিয়ার হোসেন আলভীর বাবা আবুল হোসেন, শহিদ আবদুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ্জোহরা, শহিদ ওয়াসিম আকরামের বাবা শফিউল আলম।

জুলাই বিপ্লবে আহত শাহিন মালু, সুজন মোল্লা, মিল্লাত হোসেন, আল-আমীন, মেহেদি হাসান মিরাজ বক্তব্য দেন।

জুলাই জাতীয় সম্মেলনে রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনার, সামরিক ও বেসামরিক ঊধর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর