Sunday 05 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

এমডির অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক ও স্ট্যাম্পে সই আদায়, অভিযুক্ত গ্রেফতার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৫ জুলাই ২০২৬ ১৬:২৩ | আপডেট: ৫ জুলাই ২০২৬ ১৭:৩৬

ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা সিসিটিভি ফুটেজ।

‎বরিশাল: বরিশালে অগ্রণী হাউজিং লিমিটেড নামে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারের অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক ও স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৭ জুন সন্ধ্যার পর নগরীর সদর রোডে অগ্রণী হাউজিং অফিসে এই ঘটনা ঘটে।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে সদর রোড থেকে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

‎ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ বিষয়টির সিসিটিভি ফুটেজ শনিবার (৪ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে তা ভাইরাল হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আব্দুল আজিজ আদালতে নালিশি মামলা করেন।

বিজ্ঞাপন

‎ভিডিওতে দেখা যায়, আব্দুল আজিজের কক্ষে চারজন যুবক প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নামের এক ব্যক্তি তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে দুটি চেক ও একটি সাদা স্ট্যাম্পে সই নেওয়া হয়। ঘটনার সময় আজিজকে বাচ্চু বাচ্চু বলে কাউকে ডাকতে শোনা যায়। পরে আরও একজন কক্ষে প্রবেশ করলে তাকে কিছুক্ষণ আটকে রেখে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় চেক ও স্ট্যাম্পে সই নিয়ে সেটা হস্তান্তরের দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করা হয়।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত লিটু অগ্রণী হাউজিংয়ের কাছাকাছি কাঠপট্টি সড়কের বাসিন্দা। তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার বড় ভাই মাহবুবুর রহমান পিন্টু মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি।

‎ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ বলেন, লিটু একসময় তাদের আবাসন ব্যবসার অংশীদার ছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগের বিপরীতে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে হিসাব নিষ্পত্তি করা হয় এবং কোনো পাওনা নেই; এমন অঙ্গীকারনামাও দেওয়া হয়। এরপরও তিনি ১ কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন। ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অফিসে ঢুকে তাকে মারধর করে জোরপূর্বক ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক ও দুটি সাদা স্ট্যাম্পে সই নেওয়া হয়।

‎তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর তিনি ব্যাংকে অভিযোগ করায় ওই চেক থেকে টাকা উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি। সিসিটিভি ফুটেজ তিনিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন বলেও স্বীকার করেন।

‎অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা সবাই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন। তার দাবি, আব্দুল আজিজ তাদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে পরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।

‎বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রকাশ্যে এভাবে লাঞ্ছিত করা কাম্য নয়। যদি বিএনপি বা সহযোগী সংগঠনের কেউ জড়িত থাকেন, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর