ঢাকা: নতুন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের শুরুতে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) প্রবাহে কিছুটা ধীরগতি দেখা গেছে। অর্থবছরের প্রথম চার দিনে দেশে এসেছে ৩৪ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ শতাংশ কম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, ১ থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে মোট ৩৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৩৬ কোটি ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স কমেছে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ডলার এবং প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৩ শতাংশে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২ থেকে ৪ জুলাই—এই তিন দিনেই এসেছে ২৯ কোটি ডলার। অর্থাৎ মাসের শুরুতে রেমিট্যান্সের বড় অংশ এসেছে শেষ তিন দিনে। প্রথম দিনের তুলনায় পরবর্তী দিনগুলোতে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ কিছুটা বেড়েছে।
রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখা এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে অর্থবছরের শুরুতে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক হলেও এটি সাময়িক নাকি দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা—তা নির্ভর করবে জুলাই মাসের বাকি সময়ের প্রবাহের ওপর।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণত মাসের বিভিন্ন সময়ে, বিশেষ করে ঈদ, উৎসব বা বেতন পরিশোধের সময় রেমিট্যান্সের প্রবাহে ওঠানামা দেখা যায়। তাই মাত্র চার দিনের তথ্য দিয়ে পুরো মাস বা অর্থবছরের প্রবণতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তবে নতুন অর্থবছরের শুরুতে রেমিট্যান্সের এই সামান্য পতন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের বিষয়।