Saturday 11 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

টানা বর্ষণে বেনাপোল বন্দরে পানিতে ভাসছে কোটি টাকার পণ্য

লোকাল করেসপন্ডেন্ট
১১ জুলাই ২০২৬ ১২:৫৯

বেনাপোল বন্দরের বিভিন্ন শেডে বৃষ্টির পানি জমে ভিজে যাচ্ছে আমদানি করা মালামাল। ছবি: সারাবাংলা

বেনাপোল: একদিনের টানা বর্ষণে বেনাপোল বন্দরের বিভিন্ন শেডে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোটি কোটি টাকার পণ্য হাটু পানিতে ভাসছে। দুশ্চিন্তায় পড়েছে আমদানিকারকরা।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল বন্দরে শেড ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মিত হলেও নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায় শত শত কোটি টাকার আমদানিকৃত মালামাল। অবশ্য বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত থেকেই বিরামহীন ভাবে বৃষ্টি হচ্ছে এ অঞ্চলে। একটানা বৃষ্টিতে বেনাপোল বন্দরের তিন নম্বর গেটের সামনে পাঁচটি শেডে পানিতে তলিয়েছে বিভিন্ন ধরনের আমদানিকৃত মালামাল। কোথাও কোথাও হাটু পানি জমে গেছে। এসব পানি পাওয়ার পাম্প দিয়ে বের করার চেস্টা চলছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বন্দর ব্যবহারকারিরা এসব এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী ও অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, স্থানীয় বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে নানা অব্যস্থপনার কথা বলে আসলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কোন কথা আমলে না নেওয়ার ফলে প্রায় শতাধিক আমদানিকারক সব হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। বিমা না থাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো ক্ষতিপূরণ দেন না। পানি নিস্কাশনের বিষয়ে কমিটি করা হলেও তার কোন কার্যকারিতা নেই। গত বছরের বর্ষার সময় কমিটির লোকজনের তৎপরতা ২/১ দিন দেখা গেলেও পরে এ নিয়ে আর কোন পরিকল্পনা করা হয়নি।

বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক আনু জানান, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর হলো বেনাপোল। সরকার এই বন্দর থেকে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে থাকে। এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা একাধিকবার বন্দরের কাছে অভিযোগ করলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এত বড় বাণিজ্যিক স্থাপনায় বছরের পর বছর এই দুর্দশা চললেও সরকার কোন পদক্ষেপ না নেওয়া দুর্ভাগ্যজনক। বৃষ্টির পানি পণ্যাগারে ঢুকে মালামাল ভিজে নস্ট হলে লোকসানের শিকার হতে হয় ব্যবসায়ীদের।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টিতে বেশকিছু শেডে পানিতে মালামার ভিজেছে। পাওয়ার পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চলছে। তবে অবিরাম বৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা বেগপেতে হচ্ছে।’ বৃষ্টি পড়া বন্ধ হলে সমস্যা সমাধান হওয়ার আশা করেন তিনি। জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর