Monday 24 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

নুসরাত হত্যা মামলা: যে কারণে খালাস পেলেন ১০ আসামি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৪ আগস্ট ২০২৬ ১৭:০০

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি – সংগৃহীত কোলাজ ছবি

ঢাকা: ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে ১০ জনকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে এবং চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানান, যেসব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি কিংবা যাদের বিরুদ্ধে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ আদালতের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি, তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইজাজ কবির ও ইমাম হোসেন তারেক। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী, এস এম শাহজাহান, মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, এসএম মাসুদ হোসাইন দোলন, শিশির মনির এবং খন্দকার মোহাম্মদ মাশফিকুল হুদাসহ অন্যরা।

বিজ্ঞাপন

রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ্দৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া নুর উদ্দিন, জাবেদ, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের এবং উম্মে সুলতানা পপির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

হাইকোর্টের রায়ে খালাস পাওয়া ১০ জন হলেন— কামরুন নাহার মনি, হাফেজ মোহাম্মদ আবদুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন মামুন, আব্দুর রহিম শরীফ, মোহাম্মদ শামীম (২), ইফতেখার উদ্দিন রানা, রুহুল আমিন, আবসার উদ্দিন ও মাকসুদ কাউন্সিলর। আদালতের মতে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের মতো পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

খালাসপ্রাপ্ত কামরুন নাহার মনির আইনজীবী শিশির মনির বলেন, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে বোরকা কেনার দায়িত্ব পালনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে যে দোকান থেকে বোরকা কেনার দাবি করা হয়, সেখানকার সাক্ষীরা তাকে শনাক্ত করতে পারেননি। এ কারণেই আদালত তাকে খালাস দিয়েছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফির মা শিরীন আখতার সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেফতারের পর অধ্যক্ষের অনুসারীরা তাকে মুক্ত করার লক্ষ্যে পরিকল্পনা করে।

এর ধারাবাহিকতায় ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে পরিকল্পিতভাবে নুসরাতকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় প্রথমে তাকে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল এবং শেষ পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল সে মারা যায়।

ঘটনার পর ৮ এপ্রিল নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান হত্যা মামলা দায়ের করেন। বিচার শেষে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। দীর্ঘ আপিল শুনানি শেষে হাইকোর্ট ওই রায়ে আংশিক পরিবর্তন এনে সর্বশেষ এ রায় ঘোষণা করেন।