Monday 31 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

নিজস্ব জমি পড়ে আছে ৮ বিঘা / ২৯ বছরে অফিস ভাড়ায় গচ্চা সোয়া কোটি টাকা!

আশরাফুল ইসলাম জয়, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩১ আগস্ট ২০২৬ ০৮:২৫

সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১। ফাইল ছবি

সিরাজগঞ্জ: রায়গঞ্জ উপজেলার ভূইয়াগাঁতীতে পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের নিজস্ব প্রায় আট বিঘা জমি পড়ে থাকলেও গত ২৯ বছর ধরে ভাড়া ভবনে চলছে অফিস কার্যক্রম। ধানগড়া এলাকায় ভাড়া নেওয়া ভবনের জন্য প্রতি মাসে ৩৫ হাজার ৭০০ টাকা ব্যয় হচ্ছে। এই হিসাবে গত ২৯ বছরে শুধু বাড়িভাড়া বাবদ ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা। এতে একদিকে যেমন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সম্পত্তি অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে, অন্যদিকে নিয়মিত ভাড়া বাবদ বেরিয়ে যাচ্ছে বিপুল অর্থ।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর অধীন ভূইয়াগাঁতী জোনাল অফিসের ৩০ এমপি উপকেন্দ্র ১৯৮১ সালে স্থাপন করা হয়। পরে ১৯৯৭ সালে ভূইয়াগাঁতীতে অফিসের জন্য ১৩৫ দশমিক ৭৫ শতক, ৮০ শতক ও ৫৬ শতক মোট ২১৫ দশমিক ৭৫ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হয়। স্থানীয়দের হিসাবে এ জমির পরিমাণ প্রায় ৮ বিঘা।

বিজ্ঞাপন

জমি অধিগ্রহণের পর প্রায় তিন দশক পার হলেও সেখানে এখনো পূর্ণাঙ্গ জোনাল অফিস নির্মাণ করা হয়নি। বরং, ধানগড়ার একটি ভাড়া ভবন থেকেই অফিসের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

হিসাব অনুযায়ী, মাসে ৩৫ হাজার ৭০০ টাকা ভাড়া হলে বছরে ব্যয় হয় ৪ লাখ ২৮ হাজার ৪০০ টাকা। একই হারে ২৯ বছরে ভাড়া বাবদ ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ ২৩ হাজার ২০০ টাকা। তবে বিভিন্ন সময়ে ভাড়ার হার পরিবর্তন হয়ে থাকলে প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা আকাশ সরকার সারাবাংলাকে বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের নিজস্ব প্রায় ৮ বিঘা জমি রয়েছে। অথচ সেই জমি পড়ে আছে, আর অফিস চলছে ভাড়া ভবনে। বছরের পর বছর এভাবে সরকারি অর্থ খরচ করার যৌক্তিকতা কী- তার উত্তর কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মোতাহার হো‌সেন সারাবাংলাকে বলেন, ‘১৯৯৭ সালে অফিসের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এত বছর পরও যদি সেখানে অফিস না হয়, তাহলে জমিটি কেন অধিগ্রহণ করা হয়েছিল সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার। দ্রুত নিজস্ব জমিতে অফিস স্থানান্তর করা উচিত।’

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. বা‌ছেদ সকার সারাবাংলাকে বলেন, ‘প্রতি মাসে ভাড়া দিতে হচ্ছে। ২৯ বছরে এই টাকার পরিমাণ কোটি ছাড়িয়েছে। আগে থেকেই নিজস্ব জায়গায় ভবন নির্মাণ করা হলে দীর্ঘমেয়াদে এই অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব হতো।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিজস্ব জমি থাকার পরও ভাড়া ভবনে অফিস পরিচালনার কারণে প্রতিষ্ঠানের ওপর অপ্রয়োজনীয় আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। তাদের দাবি, জমির বর্তমান অবস্থা ও দীর্ঘদিন সেখানে ভবন নির্মাণ না হওয়ার কারণ তদন্ত করে দেখা হোক।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১, উল্লাপাড়ার জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) নূরুল হুদা সারাবাংলাকে বলেন, ‘অতিদ্রুত প্রকল্পের মাধ্যমে ভূইয়াগাঁতীর নির্ধারিত স্থানে অফিস ভবন নির্মাণের পাশাপাশি কর্মচারীদের জন্য কোয়ার্টার স্থাপন করা হবে।’

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রায় ২৯ বছর ধরে নিজস্ব জমি পড়ে থাকার পরও এখনো কেন অফিস নির্মাণ হয়নি? নতুন প্রকল্পটি কবে শুরু হবে এবং কবে নাগাদ অফিসটি নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর করা হবে তার নির্দিষ্ট সময়সীমা জানতে চান তারা।

তাদের মতে, নিজস্ব জমিতে দ্রুত অফিস ভবন নির্মাণ করা হলে একদিকে ভবিষ্যতের ভাড়া ব্যয় বন্ধ হবে, অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুতের নিজস্ব সম্পত্তিরও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে। এখন দেখার বিষয়, তিন দশকের এই ভাড়া-নির্ভরতার অবসান ঘটিয়ে কবে ভূইয়াগাঁতীর নিজস্ব জমিতে ফিরবে পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস।