Sunday 16 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

‘বৈবাহিক অবস্থা’ জানতে চাওয়া কেন অবৈধ নয়, আদালতে রুল


১১ ডিসেম্বর ২০১৭ ২১:২৩ | আপডেট: ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭ ২১:১৭
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা:
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে বৈবাহিক অবস্থার তথ্য জানতে চাওয়া কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। একইসঙ্গে রাজশাহী সরকারি নার্সিং কলেজ কর্তৃপক্ষকে ধর্ষণের শিকারে মা হওয়া এক ছাত্রীকে ভর্তি নিতে আদেশ দিয়েছেন আদালত।

দুই আইনজীবীর দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ’র হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

চার সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব, আইন সচিব, নারী ও শিশু সচিব, মহিলা অধিদফতরের মহাপরিচালক, নার্সিং অধিদফতরের মহাপরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার অনীক আর হক, আইনুন নাহার সিদ্দিকা ও ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া।

গত ১৪ নভেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘মেয়েটি এখন কী করবে?’ শিরোনামে এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে আদালতে রিট করেন ফাহরিয়া ফেরদৌস ও নাহিদ সুলতানা জেনি।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৬ জুন ধর্ষণের শিকার ১০ম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রী গর্ভবতী হয়। সালিশে গ্রামবাসীরা ধর্ষককে ভুক্তভোগী মেয়েটিকে বিয়ে করতে চাপ দিতে থাকে। তবে অভিযুক্ত যুবক বিয়ে করতে অস্বীকার করায় সালিশ ভেঙে যায়। হুমকির মুখে ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) থেকেই ধর্ষণ মামলা করা হয়। মামলার পর পুলিশ আসামিকে গ্রেফতার করে। ডিএনএ টেস্টে প্রমাণিত হয় অভিযুক্ত যুবকই শিশুটির বাবা। আদালতের নির্দেশে ‘মহিলাসহায়তা কর্মসূচি’র অধীনে রাজশাহী বিভাগীয় আবাসনকেন্দ্র থেকে মেয়েটি মাধ্যমিক পরীক্ষা দেয়। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সে জিপিএ-৪.১৯ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। পরীক্ষা চলাকালে ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তার পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাতেও সেখান থেকে অংশ নিয়ে জিপিএ-৩.১৭ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।

এদিকে গত ৩০ মে আদালত ধর্ষক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানাদেশ দেয়। একইসঙ্গে আদালত বাবাকে সন্তানের দায় নিতে আদেশ দেয়।

সন্তান থাকায় অবিবাহিত হলেও তাকে বিবাহিত বিবেচনা করছে নার্সিং কলেজ। যে কারণে ভর্তি আবেদন করতে পারবেন না- জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সারাবাংলা/এজেডকে/এটি

বিজ্ঞাপন

আরো