Monday 13 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

প্রতিবন্ধীবান্ধব শহর গড়তে কী করণীয়, জানা যাবে বিইউএজি সাইটে

সারাবাংলা ডেস্ক
২৫ নভেম্বর ২০২১ ২১:৩১

বিইউএজি ওয়েবসাইটে ছবিসহ বাংলায় নির্দেশিকা লেখা আছে

উদ্বোধন হল প্রতিবন্ধীবান্ধব শহর গড়তে করণীয় সম্পর্কে বাংলায় লেখা বিস্তারিত নির্দেশিকা সম্বলিত ওয়েবসাইট। সকলের হাতের নাগালে পৌঁছে দেওয়ার জন্যে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সহজভাবে সার্বজনীনগম্যতার বিধানসমুহ বাংলা ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। এই ওয়েবসাইটি যে কেউ যেকোন জায়গা থেকে এমনকি মোবাইলের মাধ্যমেও প্রবেশ করতে পারবেন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্যা চেঞ্জ এন্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস (বি-স্ক্যান) এর উদ্যোগে এটি বানানো হয়েছে।

বুধবার (২৪ নভেম্বর) ফেসবুকে লাইভ ওয়েবইনার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিইউএজি নামের এই ওয়েবসাইট উদ্বোধন করেন স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি মীর মঞ্জুরুর রহমান। ওয়েবসাইটটি ইউএনডিপি’র ডাইভারসিটি ফর পিস কর্মসূচীর আওতায় একসেসিবল ঢাকা ক্যাম্পেইন প্রকল্পের সহায়তায় তৈরি করা হয়।

বিজ্ঞাপন

 বি-স্ক্যানের পক্ষে মাস স্টুডিও প্রায় ১ বছর ধরে বিইউএজি ওয়েবসাইট তৈরি করেছে। পাশাপাশি এর একটি প্রিন্ট ভার্সন তৈরির কাজও তারা করেছেন। মাস স্টুডিওর পক্ষ থেকে ফাহিম হাসিন সহন ও তানজিয়া বারি আকাশ বলেন, তারা বিএনবিসির নির্দেশনা সকলের কাছে সহজবোধ্যভাবে তুলে ধরেছেন। নির্দেশনাসমুহে বিএনবিসি-এর পাশাপাশি এডিএ গাইডলাইন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক নির্দেশনাসমূহকে সহজবোধ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশগম্যতার সকল বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে শ্রেণিবিন্যাস করা আছে। পার্কিং থেকে শুরু করে সিড়ি, লিফট, দরজা, র‍্যাম্প, কার্ব র‌্যম্প, খাবারের স্থান, রান্নাঘর, গণপরিবহনের প্ল্যাটফর্ম ইত্যাদি বিষয়গুলোকে কি করে সার্বজনীনগম্য করা যায় তার নির্দেশনা খুব সহজভাবে ছবিসহ দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বি-স্ক্যানের সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, বি-স্ক্যান এমন কিছু করে যেতে চায় যাতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির বাধাহীন চলাচলের সুযোগ বৃদ্ধি পায়। স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরোলেও আমাদের মাতৃভাষায় কোন সার্বজনীনগম্য নির্দেশিকা সম্বলিত ওয়েবসাইট ছিল না। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) ২০২০ এর এপেন্ডিক্স ডি- তে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশগম্যতার বিষয়ে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হলেও আলাদাভাবে কোন নির্দেশিকা ছিল না। বিইউএজি ওয়েবসাইট তৈরির পদক্ষেপটিকে একটি লম্বা পথের প্রথম ধাপ হিসেবে অবিহিত করেন।

ইউএনডিপির প্রকল্প ফোকাল অফিসার রেবেকা সুলতানা বলেন, এই নির্দেশিকা মেনে ভবন ও স্থাপনা নির্মাণ করলে শুধুমাত্র প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাই নয়, অসুস্থ ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী ও বৃদ্ধ ব্যক্তিরা অবাধে যাওয়াআসা করতে পারবেন।

বাপার যুগ্ন সম্পাদক এবং স্থপতি ইকবাল হাবীব বলেন, ওয়েবসাইটটি এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে করে মানুষকে আরও বেশি সচেতন হয় এবং প্রফেশনালদের পাশাপাশি সবার এটিকে একটি রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। এঁকে সহজবোধ্য করার উপর জোর দেন তিনি।

ইউএনডিপির প্রকল্প ব্যবস্থাপক রবাট স্টোলম্যান অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ব্যবস্থা তৈরির প্রতি জোর দেন। তিনি এধরনের প্রকল্পে অন্যান্য ইউএন প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ত হওয়ার আশা ব্যক্ত করেন।

এইচবিআরআই এর প্রিন্সিপাল রিচার্স অফিসার আক্তার হোসেন সরকার বলেন, বিএনবিসি নতুন করে হালনাগাদ করার কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৫ সালের পর থেকে কোন সরকারি স্থাপনায় আর কোন ইট ব্যবহার করা হবেনা যার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছেন তারা।

বিআইপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আদিল রশিদ খান বলেন, বিভিন্ন জায়গায় সার্বজনীনগম্যতা নিশ্চিত করার লক্ষে কাজ করা হচ্ছে কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার অভাবে তা সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে না।

সর্বশেষে জনাব মঞ্জুরুর রহমান ওয়েবসাইটটির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং তিনি তার বক্তব্যে বলেন, তারা এমন একটি মডেল টয়লেট নির্মান করতে যাচ্ছেন, যা অন্যদের অনুসরণের জন্য উদাহারণ হয়ে থাকবে। তিনি নকশা বাস্তবায়নকারি কর্তৃপক্ষ হিসেবে এর সাথে গণপূর্ত বিভাগকে যুক্ত করার পরামর্শ দেন। সেই সাথে তিনি বি-স্ক্যানকে ধন্যবাদ জানান এমন একটি উদ্যোগ গ্রহণের জন্যে।

সারাবাংলা/আরএফ/