Friday 07 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ঢামেকে ফের সফল অস্ত্রোপচারে জোড়াশিশু আলাদা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৬:৩৫

ঢাকা: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আবারও সফলভাবে আলাদা করা হলো জোড়াশিশু। কয়েকটি বিভাগের ৮০ জন চিকিৎসক ১০ ঘণ্টাব্যাপী অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশু দু’টিকে আলাদা করেন।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সভাকক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্যটি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সাহনুর ইসলাম বলেন, ‘চলতি বছরের ১৪ জুন বরগুনার বেতাগী থেকে আসা মাহমুদা বুক পেট জোড়া লাগানো শিশু দু’টিকে নিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এর পর ২১ জুন শিশু দুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একমাস পর আসতে বলা হয়। একমাস পর শিশু দু’টিকে ফের ভর্তি করা হয় এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পুষ্টিজনিত সমস্যা সমাধান দিয়ে আরও এক মাস সময় দেওয়া হয়। এর পর তারা এলে অপারেশনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত তারিখে ভর্তির পর তাদের কয়েক দফা অস্ত্রোপচার হয়।’

বিজ্ঞাপন

ডা. সাহনুর আরও বলেন, ‘এর পর গত ৭ সেপ্টেম্বর ১০ ঘণ্টাব্যাপী সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশু দু’টিকে পৃথক করা হয়। পরে দু’জনকে আইসিইউতে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস দিয়ে রাখা হয়। সেখান থেকে ৮ সেপ্টেম্বর রিফাকে ও ৯ সেপ্টেম্বর শিফাকে ভেন্টিলেটর মুক্ত করা হয়। এর মধ্যে রিফা সম্পূর্ণ সুস্থ থাকলেও শিফা অসুস্থ ছিল। তার হার্টের সমস্যা দেখা দেয়। তাকে হার্ট ফাউন্ডেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে শিফার পিত্তনালীর সংযোগ খুলে যাওয়ায় ফের অস্ত্রোপচার করা হয়। শিফা বর্তমানে আইসিইউতে আছে। ওদের চিকিৎসার খরচ বহন করেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সমাজ সেবা দফতর, আকিজ গ্রুপ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন কর্তৃপকক্ষ, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, বিএসএমএমইউ, বারডেম, ট্রান্সফিউশান মেডিসিন, ল্যাবরেটরি মেডিসিন এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক ও তার বাবা মা।’

ডা. সাহনুর বলেন, ‘অর্থায়ন, জন্মগত ত্রুটিগুলো শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অপারেশনের জন্য প্রস্তুতি; কখনও কখনও এমন অবস্থায় পড়তে হয় দু’জনের কাউকেই রক্ষা করা যায় না। আবার কখনও একজনকে রক্ষা করা সম্ভব হয়। শিফার সমস্যাগুলো ছিল জন্মগত হৃদরোগ। এমন অবস্থায়ও অস্ত্রপচার পরবর্তী ফলাফল ভালো ছিল। এখন ওরা ভালো থাকুক সকলের প্রচেষ্টায়।’

প্রেস ব্রিফিংয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। ১৫ জুলাই থেকে যুদ্ধের মধ্যে ছিলাম। এর মধ্যে ডা. সাহনুর এই শিশুদের নিয়ে দৌড়াইছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত লম্বা সময় নিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। সেজন্য ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকদের ধন্যবাদ।’

শিশুদের বাবা বাদশা মিয়া বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে চিকিৎসকসহ সকলের সহযোগিতা পেয়েছি। সবার কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য পেয়েছি। হাসপাতালের পরিচালক স্যারসহ সকলের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।’

উল্লেখ্য, বাদশা-মাহমুদার বাড়ি বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলায়। গত বছরের ৭ জুন সিজারিয়ানের মাধ্যমে জোড়া বাচ্চার জন্ম দেয় মাহমুদা। এর আগে তাদের ঘরে ছয় বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

সারাবাংলা/এসএসআর/পিটিএম