চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরীতে গান গেয়ে গেয়ে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আরও দুজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
রোববার (৬ অক্টোবর) রাতে নগরীর খুলশী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার দুইজন হলেন- মেহেদী হাসান সাগর (২৮) ও মো. শান্ত (২৮)। তাদের দুইজনের বাড়িই খুলশীর ডেবারপাড় এলাকায়।
র্যাব ৭ চট্টগ্রামের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) শরীফ উল আলম সারাবাংলাকে জানান, মেহেদী হাসান সাগরকে খুলশীর গরীবুল্লাহ শাহ মাজারের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খুলশীর জামতলা এলাকা থেকে শান্তকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা শাহাদাত হোসেনের (২৪) খুনে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। গত ১৩ আগস্ট সাগরকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে অপহরণ করে শাহাদাতের স্ত্রীর কাছে মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে তারা আমাদের জানিয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নগর পুলিশের পাঁচলাইশ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এরআগে ২৪ সেপ্টেম্বর নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে খুনের ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।
গত ১৪ আগস্ট রাতে নগরীর দুই নম্বর গেট এলাকার আখতারুজ্জামান উড়ালসড়কের নিচে শাহাদাতকে দুটি স্টিলের পাইপের সঙ্গে বেঁধে গান গেয়ে গেয়ে উৎসবের আমেজ তৈরি করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন পুলিশ তার লাশ প্রবর্তক এলাকা থেকে উদ্ধার করে। তার মাথা ও গলাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ওই লাশ শাহাদাতের বলে শনাক্ত করে।
এক মাস ছয় দিন পর বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) শাহাদাতকে পিটিয়ে হত্যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি সারা দেশে অনলাইন-অফলাইনে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করে।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ২০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান ‘মধু হই হই আঁরে বিষ খাওয়াইলা’ গান গেয়ে শাহদাতকে মারধর করছেন কয়েকজন তরুণ। এ সময় কেউ কেউ মুখ দিয়ে বাঁশি বাজাচ্ছিলেন, কেউ উল্লাস করছিলেন।
নিহত শাহাদাতের বাড়ি নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি থানার পাঁচবাড়িয়া ইউনিয়নের নদনা গ্রামে। তিনি নগরীর কোতোয়ালি থানার বিআরটিসি এলাকার বয়লার কলোনিতে স্ত্রী শারমিন আক্তারের সঙ্গে থাকতেন।