Saturday 08 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর উদ্যোগ, অর্থনীতি সমিতির সাধুবাদ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২১ অক্টোবর ২০২৪ ১৭:২৭

ঢাকা: দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া উদ্যোগের সাধুবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি। এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসাও করেছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে অর্থ পাচারের উৎসসমূহ বন্ধে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রচেষ্টাকে সর্বতোভাবে সমর্থন জানিয়েছে অর্থনীতি সমিতি।

সোমবার (২১ অক্টোবর) অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আইনুল ইসলামের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ মন্তব্য করা হয়েছে।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি মনে করে, ‘বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চালকের আসনে থাকা জ্ঞানভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদরা দেশের অর্থনীতিতে ক্যানসার ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়া কালোটাকা, অর্থপাচার ও দুর্নীতির মতো মৌলিক সমস্যা নিমূর্লে সফল হবেন। কালোটাকা, অর্থপাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অর্থনীতি সমিতি প্রয়োজনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সবধরনের সহায়তা দেবে।’

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, দুর্নীতিগ্রস্ত অর্থ পাচার যৌক্তিক কারণেই অত্যন্ত নিন্দনীয় ও ঘৃণ্য অপরাধ। রাষ্ট্রের উন্নয়নে তা মারাত্মক ঋণাত্মক প্রভাব ফেলে। ২০১২ সাল থেকে প্রতিবছর সরকারের ঘোষিত জাতীয় বাজেটের বিপরীতে অর্থনীতি সমিতির বিকল্প জাতীয় বাজেট প্রস্তাবনায় বরাবরই বলা হচ্ছে, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অন্তত ৩ শতাংশের সমপরিমাণ মতো অর্থ পাচার হয়ে যাচ্ছে, যা দেশে বহুমাত্রিক বৈষম্য ও দারিদ্রের বিস্তার ঘটাচ্ছে এবং সর্বগ্রাসী দুর্নীতিকে উৎসাহিত করছে।

অর্থনীতি সমিতির হিসাবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশে অর্থ পাচারের পরিমাণ হবে কমপক্ষে ৭৫ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা, যা একই অর্থবছরের সৃষ্ট কালোটাকার (৮ লাখ ৪১ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা) ৯ শতাংশের সমপরিমাণ এবং একই অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের ১৬.৩ শতাংশের সমপরিমাণ। এ হিসাবে ৪৬ বছরে (১৯৭২-৭৩ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে) দেশের অর্থ পাচারের পরিমাণ হবে কমপক্ষে ৭ লাখ ৯৮ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা। যেখানে প্রতিবছর বাজেট সংকুলানের জন্য সরকারকে দেশি-বিদেশি বিপুল ঋণ নিতে হচ্ছে, সেখানে মোট বাজেটের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের সমপরিমান অর্থ পাচার হয়ে যাওয়া জাতি হিসেবে অত্যন্ত লজ্জা ও উদ্বেগের।

সারাবাংলা/ইএইচটি/এসআর
বিজ্ঞাপন

আরো