ঢাকা: বিএনপি সংবিধান সংস্কার না করে একটি ‘ভঙ্গুর সংশোধনী’ এনে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, দেশ যাতে আবার ফ্যাসিবাদের কবলে না পড়ে, সে জন্য শক্ত ও পাকাপোক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। আর এটি গণপরিষদ বা সংস্কার পরিষদ গঠনের মাধ্যমে কার্যকর করা সম্ভব।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির উদ্যোগে ‘গণঅভ্যুত্থানের ২ বছরপূর্তি উপলক্ষ্যে রক্তাক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জাতির প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। গণভোটের রায় কেন মানছে না—এ প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘অসুবিধা কোথায়? এখন কেন সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের কথা বলছেন? এর উদ্দেশ্য এরইমধ্যে দেশবাসী বুঝে গেছে।’
তিনি বলেন, গণভোট সংবিধান সংশোধনের জন্য হয়নি, সংস্কারের জন্য হয়েছে। তাই সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কার করতে হবে। তার ভাষায়, সংবিধান সংশোধন করা হলে সেটি টিকতে পারে, আবার নাও টিকতে পারে। অতীতে পাঁচটি সংশোধনী আদালতে বাতিল হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাতিল হতে পারে—এমন সংশোধনী আমরা চাই না।’
বিএনপির উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘জাতির ৭০ ভাগ রায় মেনে সংবিধান সংস্কার করুন। আমরা জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’
দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, শুধু রাজনৈতিক সমঝোতা বা সাময়িক পদক্ষেপ দিয়ে এর স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এ জন্য রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। গণপরিষদ বা সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে সেই কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
গুম কমিশন বিলুপ্তির প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে গুমের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন বাহিনী ও এজেন্সি জড়িত ছিল। এখন এ ধরনের ঘটনার তদন্ত পুলিশকে দিয়ে করা হলে প্রকৃত সত্য কতটা বেরিয়ে আসবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, ‘পুলিশ ফ্যাসিস্ট আমলে কী করেছে, তাও আমরা সবাই জানি।’
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধের প্রসঙ্গে জামায়াতের আমীর বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব নয়। এর জন্য মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে আগে মগজ পরিষ্কার করতে হবে। মানসিকতার পরিবর্তন ছাড়া চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারবেন না।’
রাজনৈতিক ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি, ঐক্যবদ্ধ থাকব।’ কোনো দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তারা লড়াই করবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘কোনো দল বা গোষ্ঠীর জন্য আমরা লড়াই করব না। আমরা জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য লড়াই করব।’
আলোচনা সভায় বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নেতারা ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।