Saturday 08 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পাওনা টাকা চাওয়ায় আইনজীবীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

সারাবাংলা ডেস্ক
২৪ অক্টোবর ২০২৪ ১০:৩৮ | আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৪ ১২:৪৬

পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শামীমা আক্তারকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ১ অক্টোবর টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ভারারিয়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা শামীমাকে উদ্ধার করে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

এই ঘটনায় শামিমা আক্তার গত ৮ অক্টোবর নাগরপুর থানায় তার চাচাতো ভাই ও ভাতিজাদের নামে একটা মামলা করেন। তারা হলেন- সিরাজুল ইসলাম (৬০), হাসান (৪০), তন্ময় (২২), রায়হান (২৩) ও আশরাফ (৪৩)।

নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ভিকটিমের লিখিত অভিযোগের পর ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয় এবং প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। বাদী যেন ন্যায়বিচার পান সে ব্যাপারে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আইনজীবী শামীমা আক্তার বলেন, প্রধান আসামি সিরাজুল ইসলাম ২০১৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় আমার বাবার কাছ থেকে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধার নেয়। গত ১ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নাগরপুর থানাধীন বনগ্রাম ব্রিজের উপর সিরাজুলের সঙ্গে আমার দেখা হলে পাওনা টাকা ফেরত চাই। এ সময় সে টাকা ধার নেওয়ার কথা অস্বীকার করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং খুনের হুমকি দেয়। প্রতিবাদ করলে আমাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে গায়ের কাপড় ছিড়ে ফেলে এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এরপর সিরাজুল হাসান, রায়হান, তন্ময় ও আশরাফকে ডেকে আনে। তারা এসে আমার গলা টিপে ধরে এবং কিল-ঘুষি ও লাথি দিয়ে আমাকে ব্রিজের উপর ফেলে দেয়। তখন স্থানীয় লোকজন আমাকে উদ্ধার করে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

শামীমা আরও জানান, আসামিরা জামিনে মুক্তি পেয়ে গত ২০ অক্টোবর আমার একটি নতুন স্থাপনা নির্মাণে বাধা দেয় এবং রাজ মিস্ত্রিদের ভয়ভীতি দেখায়। এতে আমি এবং আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বনগ্রামের এলাকার এক ব্যক্তি বলেন, ঘটনার সময় আমার স্ত্রী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনা সত্য এবং অনেকেই দেখেছে। ঘটনা যাই হোক, একজন নারীর গায়ে হাত তোলা কোনভাবেই ঠিক হয়নি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও এস আই মো. আবদুল মতিন বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন আছে। আমরা ইতোমধ্যে কয়েকজনের সাক্ষ্য নিয়েছি। আরও কয়েকজনের সাক্ষ্য বাকি আছে এবং মেডিকেল সার্টিফিকেটটি হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় আছি।

জামিনে থাকা আসামিরা স্থাপনা নির্মানে বাধা দিতে পারে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ঘটনা শোনার পর আমি এবং এস আই সায়েম সেখানে যাই এবং ঘটনার সত্যতা পাই। বাবু এবং আশরাফ নামে দুই ব্যক্তি স্থাপনা নির্মাণে বাধা দিয়েছে বলে জানতে পারি। পুলিশ সবসময় অভিযুক্ত আসামীর জামিনের বিপক্ষে অবস্থান করে। তবে কাউকে জামিন দেওয়া না দেওয়া আদালতের এখতিয়ার।

তিনি আরও বলেন, কোর্টের আদেশ কিংবা রায় ছাড়া কেউ কারো দখলীয় সম্পত্তিতে অনুপ্রবেশ কিংবা স্থাপনা নির্মাণে বাধা দিতে পারে না। এক্ষেত্রে যে কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি নির্মাণ কাজ বন্ধের জন্য বিজ্ঞ আদালতে নিষেধাজ্ঞার আদেশের নিমিত্তে পিটিশন দায়ের করতে পারে।

এদিকে প্রধান আসামি সিরাজুলের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল ধরেননি।

সারাবাংলা/ইআ
বিজ্ঞাপন

আরো