খুলনা: ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করায় আনন্দ শোভাযাত্রা করেছে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ক্যাম্পাসে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ২০০ জনের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। ‘কুয়েট স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারে’ এ আয়োজন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শোভাযাত্রা শেষে সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, সরকার সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বস্তি ফিরেছে। এতে সবাই আনন্দিত। ইতোপূর্বে ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের যেসব নেতাকর্মী শিক্ষার্থী নির্যাতন, নিয়োগ বাণিজ্য, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও মাদকের সঙ্গে যুক্ত ছিল তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। যদি পুনরায় কেউ ছাত্রলীগকে কুয়েট ক্যাম্পাসে ফেরানোর চেষ্টা করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিহত করবে।
উল্লেখ্য, বুধবার (২৩ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধের কথা জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে বিশেষ করে গত ১৫ বছরে স্বৈরাচারী শাসনামলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ হত্যা, নির্যাতন, গণরুম কেন্দ্রিক নিপীড়ন, ছাত্রাবাসে সিট বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নসহ নানা জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। এ সম্পর্কিত প্রামাণ্য তথ্য দেশের সব প্রধান গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এবং কিছু সন্ত্রাসী ঘটনায় সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের অপরাধ আদালতেও প্রমাণিত হয়েছে।
যেহেতু ১৫ জুলাই থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ জনগণকে সশস্ত্র আক্রমণ করে শতশত নিরপরাধ শিক্ষার্থী ও ব্যক্তিদের হত্যা করেছে এবং আরও অসংখ্য মানুষের জীবন বিপন্ন করেছে। সরকারের নিকট যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক, ধ্বংসাত্মক ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।