Sunday 09 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

উপকূল অতিক্রম শেষ করেছে ‘দানা’, বন্দরে এখনো সতর্ক সংকেত

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৫ অক্টোবর ২০২৪ ১১:৩৫ | আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৪ ১২:০৭

ওড়িশা উপকূলে আঘাত করে প্রবল ঘূর্ণিঝড় দানা। ছবি: আনন্দবাজার

ঢাকা: প্রবল ঘূর্ণিঝড় রূপে ভারতের ওড়িশা উপকূলে আঘাত হেনেছিল ‘দানা’। রাতভর তাণ্ডব চালিয়ে সকাল নাগাদ উপকূল অতিক্রম শেষ করেছে এটি। সেই সঙ্গে শক্তি হারিয়ে দানা এখন পরিণত হয়েছে সাধারণ ঘূর্ণিঝড়ে। ভারতের আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, আরও কিছু সময় পরে শক্তি হারিয়ে এটি নিম্নচাপে পরিণত হবে এবং বৃষ্টি ঝরিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে বাঁক নিয়ে বিদায় নেবে।

এদিকে দানার অগ্রভাগ থেকে লেজ পর্যন্ত ‘ল্যান্ডফল’ তথা স্থলভাগে আঘাত শেষ করায় বাংলাদেশের ওপর থেকে এর প্রভাবও অনেকটা কেটে গেছে। তবে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, সমুদ্রবন্দরগুলোকে এখনো ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে হবে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে ভারতের ওড়িশার ভিতরকণিকা ও ধামারার মধ্যবর্তী হাবালিখাটি ন্যাচার ক্যাম্পের কাছে স্থলভাগে আছড়ে পড়ে দানা। আলিপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, রাত দেড়টার পর থেকে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র স্থলভাগ অতিক্রম শুরু করে। শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার পরে লেজের অংশও স্থলভাগে ঢুকে পড়েছে পুরোপুরি।

সকাল পৌনে ১১টার দিকে ঘূর্ণিঝড় দানা অবস্থান করছিল ওড়িশার হাবালিখাটি থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপশ্চিমে। এ সময় সাধারণ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়া দানার প্রভাবে ঝড়ের গতি ৯০ কিলোমিটারে নেমে আসে। এরপর আরও শক্তি হারিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি নিম্নচাপে পরিণত হবে। তার পর দক্ষিণপশ্চিম দিকে বাঁক নিয়ে বৃষ্টি ঝরিয়ে শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া অফিস।

আনন্দবাজারের খবর বলছে, প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে দানা ওড়িশা উপকূলে আঘাত করলেও কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি ভারতের রাজ্যটিতে। দেশটির মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি বলেন, প্রশাসনিক নজরদারি ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কারণে কারও মৃত্যু হয়নি। ওড়িশার উপকূলবর্তী জেলাগুলো থেকে অন্তত ছয় লাখ মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে ছয় হাজার সন্তানসম্ভবা ছিলেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হওয়া ১৬০০ প্রসূতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে সন্তানের জন্মও দিয়েছেন।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতর ঘূর্ণিঝড় দানা নিয়ে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি সিরিজের ১৩তম ও শেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে শুক্রবার সকালে। এতে বলা হয়েছে, প্রবল ঘূর্ণিঝড় দানা আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিমে অগ্রসর হয়ে রাত ৩টার দিকে উত্তর ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করেছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিমে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে শনিবার (২৬ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলেছে আবহওয়া অধিদফতর।

এদিকে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, দানার প্রভাবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক প্রভাবের আশঙ্কা করা গেলেও বাস্তবে তা হয়নি। কলকাতায় রাতের দিকে কিছুটা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে গেলেও বৃষ্টি তুলনামূলক কম হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেও কমবেশি বৃষ্টি চলছে কলকাতায়।

উপকূলবর্তী জেলা হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হয়েছিল পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতেও প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছিল জেলা প্রশাসন। তবে শুক্রবার সকালে সমুদ্র অনেকটা শান্ত হয়েছে। ঝোড়ো হওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে দিঘা, শঙ্করপুর ও তাজপুরে। এখন পূর্ব মেদিনীপুর থেকে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর আসেনি।

সারাবাংলা/টিআর
বিজ্ঞাপন

আরো