Tuesday 11 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ভারতীয় আমেরিকান ভোটারদের মাঝে ট্রাম্পের সুবাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৪ নভেম্বর ২০২৪ ১০:৩৭ | আপডেট: ৪ নভেম্বর ২০২৪ ১১:৫৩

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে। এখন পর্যন্ত জরিপের ফলাফল অন্তত তাই বলে। ঐতিহ্যাসিকভাবে আসা পূর্বনির্ধারিত ফলাফলের অনেক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে এবারের নির্বাচনে। এই যেমন ভারতীয় আমেরিকান শিবিরে ডেমোক্র্যাটরা সুবিধা পেয়ে আসলেও এবার ট্রাম্প সেখানে ভালোই সুবিধা করতে পারছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান কার্নেজি এন্ডাওমেন্ট-এর এক জরীপে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাট হিসেবে পরিচয় দেয়া ভারতীয়-আমেরিকনদের ৪৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাট বলে পরিচয় দেয়, যা ২০২০ সালে ৫৬ শতাংশ ছিল। কমলা ভারতীয় বংশোদ্ভূত হওয়া সত্ত্বেও, তিনি মাত্র ৬০ শতাংশ ভারতীয়-আমেরিকানের সমর্থন পাচ্ছেন, যে সম্প্রদায় চার বছর আগে বাইডেনকে ৭০ শতাংশ সমর্থন দিয়েছিল। অন্যদিকে ট্রাম্প ২০২০ সালে ২২ শতাংশ সমর্থন পেলেও এবার ৩১ শতাংশে উন্নীত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

ভয়েস অব আমেরিকার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলোরাডো রাজ্যের ডেনভারে দিওয়ালী উপলক্ষে এক আয়োজনে সফটওয়্যার নির্মাতা সলিল গাওনকার তার ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান বন্ধুদের জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমরা এই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প না হ্যারিসকে ভোট দেবে?’

সেখানে সমবেত প্রায় ৪৫জন ব্যবসায়ী এবং প্রযুক্তি খাতে কাজ করছেন এমন পেশাজীবীদের জবাব তাঁকে হতবাক করে দেয়। তারা ২০২০ সালে জো বাইডেনের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে মতামত দেয়।

এক নৈশভোজ দিয়ে নির্বাচনের ‘ট্রেন্ড’ বোঝা যায়না, কিন্তু গাওনকারের অভিজ্ঞতায় জাতীয় পর্যায়ের একটি প্যাটার্নের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ভারতীয়-আমেরিকানরা দীর্ঘদিন ধরে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়ে আসছে, কিন্তু তাদের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

কার্নেজি এন্ডাওমেন্ট-এর দক্ষিণ এশিয়া প্রোগ্রাম-এর পরিচালক এবং এই গবেষণার যৌথ-লেখক মিলান ভাইশনভ বলছেন, ‘আমরা অনেক বেশি পরিবর্তন বা অন্তত ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন এই রিপাবলিকান দলকে গ্রহণ করার ইঙ্গিত দেখছি, যেটা আমাদের কাছে অবাক করার মত বিষয় ছিল।’

শুধু ভারতীয় আমেরিকানরাই ডানপন্থি রাজনীতির দিকে ঝুঁকছে না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, রিপাবলিকানরা দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আসা হিসপানিক জনগোষ্ঠী, কৃষ্ণাঙ্গ, আরব এবং মুসলিম ভোটারদের মাঝে সমর্থন বৃদ্ধি করেছে – যাদের সবাইকে এক সময়ে ডেমোক্র্যাটদের জন্য নির্ভরযোগ্য ‘ভোট ব্লক’ গণ্য করা হতো।

এ ধরনের পরিবর্তনের ফলে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আবার হোয়াইট হাউসে ফিরে আসবেন কিনা, তা অনিশ্চিত। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে হ্যারিস আর ট্রাম্পের মধ্যে ব্যবধান খুবই সামান্য।

ভয়েস অব আমেরিকার মাসুদ ফারিভার প্রতিবেদনে লিখেছেন, ৫০ লাখেরও বেশি ভারতীয় আমেরিকানদের এখন কোনো ছকে ফেলা কঠিন। তাদের প্রথম প্রজন্মের মধ্যে ভারতীয় টান থাকলেও নতুন প্রজন্ম নিজেদের আমেরিকানই ভাবতে পছন্দ করে। মঙ্গলবারের নির্বাচন ঘিরে তাদের ভাবনাতেও আমেরিকানদের মতোই মূল্যস্ফীতি, গর্ভপাত, কর্মসংস্থান ও আভিবাসনের মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বয়স্করা ডেমোক্র্যাট দলকে সমর্থন করছেন, বরং ৪০ বছরের কম বয়সীরাই ঝুঁকে পড়ছেন ডানপন্থি ভাবনার দিকে।

অভিবাসন ও নাগরিকত্ব ইস্যুতেও ভারতীয় আমেরিকান ভোটাররা অনেকটা ট্রাম্পের দিকেই ঝুঁকে পড়ছেন। কারণ বৈধ পথে যারা আমেরিকায় অভিবাসন নিয়েছেন, তাদের দেশটির নাগরিকত্ব পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। অথচ এখন অবৈধ পথে অভিবাসীরা আশ্রয় নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রে। অভিবাসী ভারতীয়রাও বিষয়গুলো উদ্বিগ্ন। অবৈধ অভিবাসীদের অন্ন-বস্ত্র-চিকিৎসার জন্য তাদেরই দেওয়া কর ব্যবহার করা হচ্ছে— এটিও তারা মানতে পারছেন না।

অভিবাসন ইস্যুতে এ কারণেই কমলা হ্যারিসের দৃষ্টিভঙ্গীর সঙ্গে একমত হতে পারছেন না ভারতীয় আমেরিকানরা। এ ক্ষেত্রে উলটো ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গীর সঙ্গেই অনেক বেশি একাত্ম তারা।

সারাবাংলা/এইচআই