Friday 21 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় আপসহীন ছিলেন সহিদুল্লা চৌধুরী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১১ জানুয়ারি ২০২৫ ১২:৪৮ | আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২৫ ১৫:৩২

সহিদুল্লাহ চৌধুরীর শোক ও স্বরণ সভা। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় আজীবন নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন শ্রমিক নেতা সহিদুল্লাহ চেীধুরী। তিনি কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। বর্তমান সময়ে তার মতো ত্যাগী নেতার বড় অভাব।

শনিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর টিইউসির সভাপতি ও শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ স্কপের শীর্ষ নেতা আন্দোলনের কিংবদন্তী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সহিদুল্লাহ চৌধুরীর শোক ও স্বরণ সভায় বক্তরা এসব কথা বলেন।

শ্রমিক নেতার সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, একজন সাহসী নেতাকে হারিয়ে ফেলেছি। তার স্বরণ সভায় বলতে চাই তার লড়াইয়ে আমি শ্রদ্ধা জানাই। আমরা এমন এক ব্যক্তিকে হারিয়েছি। যার অভাব কোনো দিন পুরণ হবে না। অনেক প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে গেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সিপিডির ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের অর্থনীতিবিদদের মধ্যে অনেক বৈষম্য ছিল। কিন্তু শহিদুল্লা শ্রমিক নেতা হয়ে আমাদের অনেক ভুল ধরিয়ে দিয়েছিলেন। প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে অর্থনৈতিক ভাবনা ভাবেন না। কিন্তু তিনি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে অনেক কিছু ভাবতেন।

সহিদুল্লাহ চৌধুরী গত ৩ জানুয়ারি দুপুর ২টায় রাজধানীর ডেমরায় তার নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আজীবন সংগ্রামী এই নেতা ১৯৪২ সালের ২ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া কুমিল্লা জেলার নবীনগর থানাধীন কনিকাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আরব আলী চৌধুরী ও মাতা-নূরজাহান বেগমের ৬ সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। ১৯৬৮ সালে ডেমরার সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মনেওয়া মেট্রিক পরীক্ষার্থী সাহিদা চৌধুরীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পত্তি চার পুত্র সন্তানের জনক-জননী। সাহিদা চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী অবস্থায় আছেন। সহিদুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুতে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রতো বটেই একইসঙ্গে এ দেশের শ্রমিক আন্দোলনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনের বাতিঘর এবং এ দেশের শ্রমজীবী মেহনতি জনগণের প্রকৃত আস্থাভাজন নেতা।

শ্রমিক নেতা আবুল কালাম আজাদ বলেন, সহিদুল্লাহ চৌধুরী এ দেশের শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার আদায়, সমাজ প্রগতির লড়াই এবং শোষণহীন সমাজ গড়ার মধ্যে দিয়ে শ্রমিক শ্রেণি তথা মানুষের ওপর মানুষের শোষনের অবসান ঘটিয়ে মুক্ত মানবের মুক্ত সমাজ গড়ার লড়াইয়ে অনন্য অবদান রেখেছেন। যা আমাদের সংগ্রামের পথে পাথেয় হয়ে অনুপ্রেরণা যোগাবে।

সারাবাংলা/জেজে/ইআ