Sunday 23 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

টিকটকের কারণে পাকিস্তানে মেয়েকে খুন করলেন বাবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩০ জানুয়ারি ২০২৫ ১৩:৩০ | আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২৫ ১৫:১২

পাকিস্তানে প্রতি বছর ১ হাজারেরও বেশি নারী পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মান রক্ষার্থে হত্যার শিকার হয়। ছবি: প্রতীকী

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে নিজের ১৫ বছর বয়সী মেয়েকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ স্বীকার করেছেন বাবা আনোয়ার উল-হক। মেয়ের টিকটক কনটেন্ট নিয়ে আপত্তি থাকায় তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’ এ সংবাদ প্রচার করেছে।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কোয়েটার একটি রাস্তায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। শুরুতে আনোয়ার উল-হক দাবি করেন, অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা তার মেয়েকে হত্যা করেছে। তবে পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেই হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা বাবর বালুচ।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ তদন্তকারী কর্মকর্তা জোহাইব মোহসিন বলেন, ‘আমাদের তদন্তে জানা গেছে, পরিবারের সদস্যদের মেয়েটির পোশাক, জীবনধারা ও সামাজিক মেলামেশায় আপত্তি ছিল।’ তিনি আরও জানান, ‘আমরা হত্যার সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখছি, যার মধ্যে সম্মান রক্ষার্থে হত্যার অর্থাৎ অনার কিলিং বিষয়টিও রয়েছে।’

পুলিশের তথ্যমতে, আনোয়ার উল-হক সম্প্রতি প্রায় ২৫ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর পরিবারের সঙ্গে পাকিস্তানে ফিরে আসেন। তার মার্কিন নাগরিকত্ব রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন।

এ ঘটনায় মূল অভিযুক্তের ভগ্নিপতিকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আনোয়ার উল-হকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে তার মার্কিন নাগরিকত্বের বিষয়ে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে কিনা, তা এখনও জানায়নি পুলিশ।

পাকিস্তানে ২৪ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ মানুষ টিকটক ব্যবহার করে। যদিও দেশটির সরকার সম্প্রতি কনটেন্ট মডারেশন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একাধিকবার অ্যাপটি নিষিদ্ধ করেছে।

প্রসঙ্গত, স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস কমিশন অব পাকিস্তানের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর দেশটিতে এক হাজারের বেশি নারী সম্মান রক্ষার্থে হত্যার শিকার হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট পোস্ট করা, পুরুষদের সঙ্গে মেলামেশা, বা পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে করাকে এসব হত্যার পেছনের কারণ হিসেবে দেখা হয়।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো