ঢাকা: ভূমি সংক্রান্ত সেবা সহজ করতে ‘ভূমি সহায়তা নির্দেশিকা ২০২৫’ প্রকাশ করেছে সরকার। এতে ভূমি অফিসের বাইরে থেকেই নাগরিকরা সেবা পাবেন। পাশাপাশি ডিজিটাল ভূমিসেবাকে টেকসই করা এবং এ সংক্রান্ত তথ্য সুরক্ষায় বিধিগত কাঠামো তৈরি করা হবে।
বুধবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে ‘ভূমিসেবা সহায়তা নির্দেশিকা-২০২৫’ শীর্ষক লার্নিং সেশন উদ্বোধন ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা জানান ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ।
ভূমি সচিব বলেন, ইতোমধ্যে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার কেরানীগঞ্জে-৩টি, রমনা(ধানমন্ডি)কে ১টি ও তেজগাঁও সার্কেলে ১টি ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র পাইলটিংয়ের ভিত্তিতে চালু করা হয়েছে। এরপরে আরো আটটি ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে। পরবর্তীতে পাইলটিং কার্যক্রম সমাপ্ত হলে সারাদেশে নাগরিকদের সুবিধার জন্য এ সকল ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র চালু করা হবে। এতে ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক মৌলিক ভূমিসেবা কার্যক্রম ডিজিটাইজেশনের ফলে নাগরিকরা যেন নতুন সেবা পদ্বতি অনুসরণ করে ভূমি সেবা গ্রহণ আরও সহজীকরণ হবে।
‘ভূমি সেবা হয়রানিমুক্ত করতে মন্ত্রণালয় বদ্ধপরিকর’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেবা প্রদানে কোনো রকম শৈথিল্যের প্রমান পাওয়া গেলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। জনবান্ধব ভূমিসেবা নিশ্চিতে এবার নতুন সংযোজন এই ‘ভূমিসেবা সহায়তা নির্দেশিকা-২০২৫’। জনগণ যাতে করে ভূমিসেবা গ্রহণে কারো প্ররোচনায় না পরে সে লক্ষ্যে এই নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে, যা ভূমিসেবায় নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। সেবা প্রত্যাশীরা এর মাধ্যমে কোন সেবা কীভাবে নিতে হবে বা কার কাছে কোন সেবা বিদ্যমান- তা জানতে পারবেন।
ভূমি সচিব বলেন, ডিজিটাল ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে ভূমি ব্যবস্থাপনার পুরোনো চিরাচরিত ও সময় সাপেক্ষ সেবাসমূহ। যেসব সেবা পেতে আগে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হতো গ্রাহকদের, এখন তা এসে ধরা দিয়েছে হাতের মুঠোয়। আদিকালের ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার কথা হয়েছে। ভূমিসেবা সহায়তা নির্দেশিকা প্রসঙ্গে বলেন, এটি সঠিকভাবে নাগরিকের প্রোফাইল তৈরি ও আবেদন ফরম পূরণ করে দাখিল নিশ্চিত করাসহ ভূমি অফিস সংশ্লিষ্ট অভিযোগ শূন্যে নামিয়ে আনাই অন্যতম মূল লক্ষ্য। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সরকারি সেবা গ্রহণে নাগরিক আবেদন প্রক্রিয়ায় ‘এজেন্সি সেবা’ অত্যন্ত জনপ্রিয়।