Thursday 27 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

আকস্মিক বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ১৬২, নেপাল ও চীনে নিখোঁজ ১৫০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৭ আগস্ট ২০২৬ ১১:৪৯ | আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২৬ ১৩:০৯

আকস্মিক বন্যার পর কাদায় ঢেকে যাওয়া বাড়িঘরের ড্রোন দৃশ্য। রয়টার্স

নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে এ পর্যন্ত ১৬২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর ফলে নেপাল ও চীনের তিব্বত জুড়ে অন্তত ৮০০ জন বিদেশিসহ প্রায় ১৫০০ জন নিখোঁজ হয়েছেন।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নেপালের কর্তপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও পর্যটন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নেপালে নিখোঁজ ৮২৬ জনের মধ্যে প্রায় ৬০০ জনই বিদেশি।

দুই ডজনেরও বেশি দেশের নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে ১৭৭ জন ভারতীয়, ৬৩ জন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ৩৪ জন অস্ট্রেলিয়া, ৩৩ জন ব্রিটেন এবং ২৫ জন কানাডার নাগরিক।

বিজ্ঞাপন

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভি বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তিব্বতের জিরং কাউন্টিতে নিখোঁজের সংখ্যা ৫৫৮ জন, যার মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা ১৬৫ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ক্রেনে চড়ে উদ্ধারকাজে যাচ্ছে একটি দল। ছবি: গেটি ইমেজেস।

নেপালের উদ্ধারকারী দল হেলিকপ্টার ব্যবহার করে জীবিতদের সন্ধান করছে এবং বুধবারের (২৬ আগস্ট) দুর্যোগে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া হাজার হাজার মানুষের কাছে জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে।

এই দুর্যোগটি তিব্বতের লাসার সঙ্গে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুকে সংযোগকারী, ট্রেকার ও তীর্থযাত্রীদের আনাগোনায় মুখরিত এমন একটি দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে আঘাত হেনেছে।

পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে রয়টার্সকে বলেন, ‘নিখোঁজের সংখ্যা বাড়বে, কারণ আমরা পুনরায় তল্লাশি শুরু করেছি এবং আরও মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, নেপালের জিরং-এর একটি সীমান্ত চৌকিতে জল ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত কয়েক ডজন মানুষকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং আরও ভাটির দিকে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও বিদ্যুৎ প্রকল্প ভেসে গেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬৮ বছর বয়সী বেঁচে যাওয়া কেশব প্রসাদ বারাল বলেন, ‘কাদার এক বিশাল স্রোত সোজা আমাদের দিকে ধেয়ে আসছিল। এটি যত কাছে আসছিল, ততই উঁচু থেকে উঁচু হচ্ছিল। যখন আমি দেখলাম এটি আমাদের বাড়িতে ঢুকছে, আমি আমার স্ত্রীর হাত ধরে তাকে ছাদে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু সে কাদায় ভেসে যায়।’

চার ঘণ্টা পর একটি হেলিকপ্টার তাকে নিরাপদে নিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্ত্রী এখনও কাদার নিচে কোথাও আছে। সে চলে গেছে।’

বন্যা ও ভূমিধসের পর বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি। ছবি: রয়টার্স

আরেকজন বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি বলেন, ‘তিনি যে বাড়িতে কাজ করতেন সেটি অদৃশ্য হয়ে যেতে দেখার সময় একটি আমগাছ আঁকড়ে ধরে নিজেকে বাঁচিয়েছিলেন।’

তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালে বুধবারের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পেছনে একটি হিমবাহের ধস বড় কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের ধারণা, হিমবাহের নিচের একটি বড় অংশ ভেঙে শত শত মিটার নিচে উপত্যকায় আছড়ে পড়ার ফলে এ বিপর্যয় ঘটেছে।

মার্কিন কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘প্ল্যানেট ল্যাবস’-এর পাঠানো ছবি বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা এ কথা জানিয়েছেন।

ঠিক কী কারণে হিমবাহটি ধসে পড়ল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে নেপালের সরকারি কর্মকর্তাদের ধারণা, দুর্যোগের ঠিক কয়েক মিনিট আগে ওই অঞ্চলে আঘাত হানা একটি ভূমিকম্প এর পেছনে দায়ী হতে পারে।

সারাবাংলা/এএ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর