ম্যাকাই টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শুরুতে অস্ট্রেলিয়াকে দ্রুত গুটিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েও কিছুটা অপেক্ষা করতে হলো বাংলাদেশকে। শেষ পর্যন্ত শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত ইয়র্কারে ক্যামেরন গ্রিনের প্রতিরোধ ভাঙার পর তাইজুল ইসলাম তুলে নেন শেষ উইকেট। ২১০ রানে অলআউট হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ফলে ১৪৬ রানের লিড পেয়েছে স্বাগতিকরা। টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেমেছিল ৬৪ রানে।
বল হাতে বাংলাদেশের নায়ক শরিফুল। ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়েছেন বাঁহাতি এই পেসার। দেশের বাহিরে বাংলাদেশি কোনো বোলারের সেরা বোলিং ফিগার এটি। এর আগে দেশের বাইরে বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিং ছিল তাইজুল ইসলামের—জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১২৮ রানে ৭ উইকেট।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও দীর্ঘ সময় পর সফরকারী কোনো বোলারের সেরা বোলিং ফিগার এটি। ১৯৯৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কার্টলি অ্যামব্রোস ২৫ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন। তিন দশকেরও বেশি সময় পর সেই তালিকায় নতুন করে জায়গা করে নিলেন শরিফুল।
আগের দিন ৮ উইকেটে ১৬৫ রান নিয়ে দিন শেষ করে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিল দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই বাকি দুই উইকেট তুলে নেওয়া। কিন্তু ক্যামেরন গ্রিন ও নাথান লায়ন সেই পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়ান।
পুরনো বলে আগের দিনের মতো সুইং-মুভমেন্ট না থাকায় অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা দিনের শুরুতে বেশ স্বচ্ছন্দে রান তুলতে থাকেন। গ্রিন ধীরে ধীরে ফিফটি পেরিয়ে ইনিংস বড় করার চেষ্টা করেন। অন্য প্রান্তে লায়নও দারুণ দৃঢ়তা দেখিয়ে সঙ্গ দেন তাকে।
শরিফুল এক প্রান্ত থেকে ধারাবাহিকভাবে ভালো বল করলেও অন্য প্রান্তে বাংলাদেশের বোলিংয়ে ভালো হয়নি। হাসান মাহমুদ আগের টেস্টের ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি। অবশেষে নিজের স্পেলের শেষ ওভারে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি এনে দেন শরিফুল। পা লক্ষ্য করে করা নিখুঁত ইয়র্কারে আটকে দেন গ্রিনকে। বল সরাসরি তার পায়ের পাতায় আঘাত করলে মাঠের আম্পায়ার শুরুতে আউট দেননি। বাংলাদেশ রিভিউ নিলে ৭৫ রানে থামে গ্রিনের প্রতিরোধ।
গ্রিনের বিদায়ের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার শেষ জুটি ভেঙে যায়। তাইজুল ইসলামের বলে স্লগ করতে গিয়ে জশ হ্যাজেলউড ক্যাচ দিলে ২১০ রানে শেষ হয় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। ৬২ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত থাকেন লায়ন।