রংপুর: নগরীর মাছুয়া পাড়ায় রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ মোট চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতরা হলেন— রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৭০), তার স্ত্রী বুলা চক্রবর্তী (৬০), ছেলে পিওম চক্রবর্তী (১০) ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫)।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রংপুর মহানগর পুলিশের ডিবি ইউনিট এবং কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে ওই বাড়ি তালাবদ্ধ ছিল। বাসা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস তালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বেডরুমের খাটের নিচ থেকে পিওম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ছাদের সিঁড়িতে পাওয়া যায় স্ত্রী বুলা চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহ। ছাদের একপ্রান্তে ছিল গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ। বাড়ির ভেতর জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থল থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে কবে নাগাদ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা এখনও নিশ্চিত নয়।
গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের ধর্ম শিক্ষক ছিলেন। অবসরের পর তিনি রংপুরের সমবায় মার্কেটে হোমিও চিকিৎসক হিসেবে সেবা দিয়ে আসছিলেন। ছেলে পিওম চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। মেয়ে আগামী চক্রবর্তী সম্প্রতি কারমাইকেল কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন।
রংপুর সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘মনে হচ্ছে ডাকাতির ঘটনা। ধারণা করা হচ্ছে তিন/চার দিন আগে ঘটনাটি ঘটেছে। বাসার বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। টাকাপয়সা যেখানে থাকে সব কিছু ভেঙে ফেলা হয়েছে। গলায় রশি কিংবা গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।