Saturday 22 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের এমন ভরাডুবি কেন?


৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১৯:৩৪ | আপডেট: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ১৯:৪৯

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, বাংলাদেশ বিশ্বক্রিকেটের রাজা বনে গিয়েছিল  ২০২০ সালে। অনূধর্ব-১৯ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল লাল-সবুজের দল। বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে সেটা প্রথম বিশ্বজয় তো বটেই, বৈশ্বিক কোনো টুর্নামেন্টের প্রথম শিরোপাও। কিন্তু বিশ্বজয়ের পরের আসরেই বাংলাদেশের ভরাডুবি। এবার যুব বিশ্বকাপে অষ্টম হয়েছেন যুবারা।

কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েছে রাকিবুল হাসানের বাংলাদেশ। পরে পঞ্চম ও সপ্তম স্থান নির্ধারনী ম্যাচেও হেরেছেন জুনিয়র টাইগাররা। অর্থাৎ ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ অনূধর্ব-১৯ দলকে ফিরতে হচ্ছে অষ্টম হয়ে। এমন ভরাডুবির কারণ কি?

বিজ্ঞাপন

সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট মনে করছেন ব্যাটিংটাই ডুবিয়েছে বাংলাদেশকে। পাইলট সারাবাংলাকে বলেন, ‘এটাই তো স্বাভাবিক নিয়ম যে কখনো আপনি চ্যাম্পিয়ন হবেন, কখনো আগে বাদ পড়বেন। এটা মেনে নিতেই হবে। কিন্তু বাংলাদেশ যে অ্যাপ্রোচে খেলেছে সেটা আমার ভালো লাগেনি। ভারতের বিপক্ষে আমরা ৩৭ ওভার ব্যাটিং করে ১১১ রান করেছি। উইকেট হয়তো ভিন্ন রকম ছিল। কিন্তু সেটা তো কিছু সময়ের মধ্যেই বুঝা যাওয়া উচিত ছিল। ধরেন দুই উইকেট যাওয়ার পর যদি আপনি নতুন প্ল্যান করতেন এবং পুরো ৫০ ওভার খেলার লক্ষ্যে ব্যাটিং করতেন তাহলে তো ভিন্ন কিছুও হতে পারত। যদি ১৫০ রানও হতো তাহলেও জেতার সুযোগ ছিল। আমার মনে হয় ব্যাটিং একদমই ভালো হয়নি। ব্যাটিং অ্যাপ্রোচটা ভালো হলে বিশ্বকাপ আরও ভালো হতো।’

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৯৭ রানে গুটিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ ম্যাচ হেরেছে সাত উইকেটে। গ্রুপ পর্বের বাকি দুই ম্যাচে দুর্বল প্রতিপক্ষ কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়ে অবশ্য পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। তবে কোয়ার্টারে আবারও ব্যাটিং ব্যর্থতা।

ভারতের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে মাত্র ১১১ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। পাঁচ উইকেটে ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত  হয়েছে রাকিবুল, আইচ মোল্লা, সাকিবদের। পরের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষেও  ব্যাটিংটা ডুবিয়েছে বাংলাদেশকে। পঞ্চম স্থান নির্ধারনি ওই ম্যাচে আরিফুল ইসলাম দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করলেও বাংলাদেশের স্কোর থেমেছে ১৭৫ রানে। এই সংগ্রহে পরে ম্যাচ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। ছয় উইকেটে হেরেছেন যুবারা। সপ্তম স্থান নির্ধারনি ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শুধু ভালো ব্যাটিং করতে পেরেছে বাংলাদেশ। আরিফুলের আরেকটি সেঞ্চুরিতে ২৯৩ রান তোলে আগে ব্যাটিং করা বাংলাদেশ। তবুও অবশ্য ম্যাচ হারতে হয়েছে।

গত বছরের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এবার নিশ্চয় ভালো কিছুর প্রত্যাশা ছিল। প্রত্যাশার সেই চাপেই কি ভেঙে পড়ল বাংলাদেশ? খালেদ মাসুদ পাইলট তেমনটি মনে করছেন না। তিনি বলেন, ‘না, এমন কিছু আসলে নয়। ব্যাটিংটাই ডুবিয়েছি আমাদেরকে। বোলিং ভালো হচ্ছিল, ফিল্ডিংও ভালো হচ্ছিল কিন্তু ব্যাটিংটা একদমই ভালো হয়নি।’

আরেক সাবেক অধিনায়ক এবং নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন অবশ্য বলছেন, এবারের দলটা আগের দলের মতো শক্ত নয়। প্রত্যাশিত পারফর্ম দেখা যায়নি সেই কারণেই। সাবেক অধিনায়ক সারাবাংলাকে বলেন, ‘দেখুন এখানে কারণ খোঁজার চেষ্টা না করাই ভালো। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে তো প্রতি বছর নতুন দল আসে। এখানে কিন্তু একই টিম প্রতিবার খেলার সযোগ নেই। এ বছর তো নতুন টিম আসছে। বয়সের একটা বাঁধা থাকে। সে হিসেবে প্রতি বছরই দল পরির্তন হয়। এবারের টিমটা আমাদের প্রত্যাশিত পূরণ করতে পারল না এই আর কি।’

বিশ্বকাপকে সামনে রেখে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পারফর্ম ভালো হচ্ছিল না। যাতে বিশ্বকাপের আগে বয়স অনুযায়ী গত বিশ্বকাপ খেলা কয়েকজনকে দলে ডাকা হয়। অধিনায়ক পাল্টে তাদেরই একজন রাকিবুল হাসানকে অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাতে ফলও অবশ্য মিলে। ভারতে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে গিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। সে হিসেবে প্রত্যাশা ছিল বিশ্বকাপেও ভালো কিছু হবে।

কিন্তু বিশ্বকাপে পুরো ব্যর্থ বাংলাদেশ যুব দল। বিশ্বকাপের আগে এশিয়া কাপেও প্রত্যাশিত পারফর্ম করতে পারেনি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।