Sunday 20 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রাজবাড়ীতে বৃষ্টির অজুহাতে সবজির দাম বেড়েছে, মরিচের দামে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১১ জুলাই ২০২৫ ১৬:৩৫

রাজবাড়ী: গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজবাড়ীর বাজারে সবজির দামে ব্যাপক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে মরিচের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এতে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। ব্যবসায়ীরা বৃষ্টির কারণে দাম বাড়ার কথা জানালেও ক্রেতাদের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবার (১১ জুলাই) সকালে রাজবাড়ী বড় বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা যায়।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে যে মরিচ খুচরা বিক্রেতারা ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছিলেন, এখন তা ২৪০ টাকা থেকে ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আলুর দামও বেড়েছে, গত সপ্তাহে ২০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যান্য সবজির দামও চড়া। প্রতি কেজি করলা ৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ৪০ টাকা, গোল বেগুন ৬০ টাকা, কচুমুখী ৫০ টাকা, পটল ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৫০ টাকা, রসুন ১২০ টাকা, আদা ১২০ টাকা, ধুন্দল ৩০ টাকা, শশা দেশি ৫০ টাকা এবং হাইব্রিড ৩০ টাকা, ঝিঙে ৪০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৩০ টাকা, কুমড়া ৩০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, টমেটো ১৬০ টাকা এবং গাজর ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া, চালকুমড়া (মাঝারি) ৩০ টাকা পিস, কচুর লতি ৫০ টাকা কেজি, বরবটি ৪০ টাকা কেজি, কাঁচাকলা ২৫ টাকা হালি এবং লাউ আকারভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।

শাকের দামও স্থিতিশীল নয়। লালশাক ও ডাটা শাকের ছোট এক আঁটি ১০ টাকা, পুঁইশাকের আঁটি ২০ টাকা, মুলাশাকের আঁটি ১০ টাকা, কলমি শাকের আঁটি ৮ থেকে ১০ টাকা এবং ডাটা ২০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে এর বিপরীতে লেবুর দাম কিছুটা কমেছে। আকারভেদে লেবু ৮ টাকা থেকে ১৬ টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজার করতে আসা রহমত শেখ নামের এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, ‘আমি এক সপ্তাহের বাজার একবারে করে রাখি। গত সপ্তাহে যে মরিচ ১২০ টাকা কেজি দরে কিনেছিলাম, আজ তার দাম ২৪০ টাকা। আলু ২০ টাকা থেকে বেড়ে ২৫ টাকা হয়েছে। অন্যান্য সবজির দামও অনেক বেশি।’

দোকানদাররা বৃষ্টির কারণে দাম বাড়ার কথা জানালেও রহমত শেখের মতো সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি মনে করেন, ‘দাম বাড়লে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের অনেক কষ্ট হয়। এ কারণে সরকারি মনিটরিং ব্যবস্থা থাকা দরকার।’

সবজির দাম বাড়ার কারণ প্রসঙ্গে খুচরা সবজি বিক্রেতা ঈমন বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির কারণে সবজির আমদানি কমে গেছে। এছাড়া প্রতি বছরই এই সময়ে মরিচের দাম বাড়ে, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আলুসহ কিছু সবজির দাম বেড়েছে। আমরা যে দামে সবজি কিনি, তার থেকে সামান্য লাভে বিক্রি করি।’

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর রাজবাড়ী কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কাজী রকিবুল হাসান জানিয়েছেন, তারা নিয়মিত বিভিন্ন হাট-বাজারে অভিযান চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আর্থিক জরিমানাসহ অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।’

সাবাংলা/এসআর
বিজ্ঞাপন

রাজকীয় স্বাদের ছানার কোপ্তা কারি
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৫৪

আরো