রাজবাড়ী: টানা বৃষ্টির অজুহাতে রাজবাড়ীতে বেড়েছে সব ধরণের সবজির দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় সব ধরণের সবজির দাম ২০ টাকা থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বেড়েছে। এতে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। ব্যবসায়ীরা বৃষ্টির কারণে দাম বাড়ার কথা জানালেও ক্রেতাদের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার (৮আগস্ট) সকালে রাজবাড়ী শহরের বড় বাজারে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে যে মরিচ খুচরা বিক্রেতারা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি করেছে, এখন তা ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যে করলা গত সপ্তাহে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে সেই করলা বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে। যে আদা ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়ে সেই আদা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি পেঁপে ৩০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, মূলা ৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ৭০ টাকা, গোল বেগুন ১০০ টাকা, শশা ৭০ টাকা, কুমড়া প্রতি কেজি ৪০ টাকা, ঢ়্যাঁড়শ ১০০ টাকা, কঁচুমুখি ৪০টাকা থেকে ৫০ টাকা, ঝিঙে ৮০ টাকা, ধুন্দল ৫০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, রসুন ১২০ টাকা, পেঁয়াজ ৭০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে।

গত সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে সবজির দাম। ছবি: সারাবাংলা
এছাড়া, চালকুমড়া ৫০ টাকা পিস, লাউ আকারভেদে ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকা, কাঁচাকলা হালি ৩০ টাকা। প্রতি কেজি আমড়া ৪০ টাকা, টমেটো ১৮০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৮০ টাকা, ধনিয়া পাতা ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
তবে শাকের দাম বৃদ্ধি পায়নি। লাল শাক ও সবুজ শাকের ছোট আঁটি ১০ টাকা, পুঁইশাকের আঁটি ২০ টাকা, কলমি শাকের আঁটি ৮ টাকা, ডাটা ২০ টাকা আঁটি এবং শাপলা ফুলের আঁটি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেবু আকারভেদে ৮ টাকা থেকে থেকে ১৫ টাকায় হালি বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যর অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজার করতে আশা নিতাই বলেন, ‘কিছুই কেনার কায়দা নেই। ৫০/৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। দাম বাড়লে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের অনেক কষ্ট হয়। আজ ৩২০ টাকার কাঁচা বাজার করেছি সেটা ব্যাগের নিচে পড়ে আছে। বাড়িতে গিয়ে বললে কেউ বিশ্বাস করবে না এখানে ৩২০ টাকার বাজার।’

সবজির বাজারে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি: সারাবাংলা
সবজি কিনতে আসা সুমন শিকদার বলেন, ‘আমি একটি কোম্পানির জব করি। প্রতি শুক্রবারে সাপ্তাহিক বাজার করি। গত সপ্তাহের তুলনায় সবজির দাম অনেক বেড়ে গেছে আজ। আগে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার বাজার করলে ব্যাগ ভরে যেত। আজ এখন ৫৪০ টাকার বাজার করেছি তাও ব্যাগ ভরেনি। দাম বাড়লে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের অনেক কষ্ট হয়। এ কারণে দরকার সরকারি মনিটরিং ব্যবস্থা। কি কারণে সবজির দাম বাড়ছে, কারা বাড়াচ্ছে এসব বিষয় তদারকি করা খুব জরুরি।’
দাম বাড়ার প্রসঙ্গে খুচরা বিক্রেতা শহিদ ও মালেক বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে টানা বৃষ্টির প্রভাবে বাজারে সবজির আমদানি কমে যাওয়াযতে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে। আমদানি বেশি হলে দাম কমে আসবে। বৃষ্টিতে সবজিও কম হয়। আমরা যেভাবে কিনব সামান্য লাভ হলেই বিক্রি করে দেব। এগুলো তো রেখে দেওয়ার পণ্য নয় যে আগামী দিনে দাম বাড়লে তখন বিক্রি করবো। বৃষ্টিতে কৃষকেরও ক্ষতি হচ্ছে।’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর রাজবাড়ী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বৃহস্পতিবারও নতুনবাজারসহ কয়েকটি বাজারে অভিযান চালেছি। আবহাওয়ার জন্য সবজির দাম একটু বেশি। তারপরেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেন স্বাভাবিক থাকে এবং নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। আর্থিক জরিমানাসহ অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগেও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে।’