ভারতীয় বিমানবাহিনী (আইএএফ) প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন পাকিস্তানের ছয়টি বিমান ভূপাতিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে পাঁচটি যুদ্ধবিমান ও একটি বড় আকারের বিমান। মে মাসের ৭ তারিখে কাশ্মীরের পেহেলগাম হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই সামরিক অভিযান চালানো হয়, যেখানে পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ভারত।
শনিবার (৯ আগস্ট) ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ.পি. সিং বলেন, ভূপাতিত হওয়া বড় বিমানটি ছিল একটি এইডব্লিওঅ্যান্ডসি (Airborne Early Warning and Control System)। এই ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমান হারানোর ফলে পাকিস্তানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ‘কেবল আকাশেই নয়, ভারতীয় বিমান হামলায় পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিগুলোতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’
এ.পি. সিং বলেন, ‘‘আমরা নিশ্চিতভাবে পাঁচটি যুদ্ধবিমান এবং একটি বড় বিমান ভূপাতিত করেছি। এটি প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূর থেকে ভূপাতিত করা হয়েছে, যা এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে বড় ‘সারফেস-টু-এয়ার কিল’।’’
এয়ার চিফ মার্শাল সিং রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এই সাফল্যের একটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থাটি ‘গেম-চেঞ্জার’ হিসেবে কাজ করেছে। এর দীর্ঘ পাল্লার কারণে পাকিস্তানের কোনো বিমান ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারেনি এবং তাদের দূরপাল্লার গ্লাইড বোমাও ব্যবহার করতে পারেনি।
আইএএফ পাকিস্তানের জ্যাকোবাবাদ এবং ভোলাড়ি বিমানঘাঁটিতেও বিমান হামলা চালায়। জ্যাকোবাবাদের একটি হ্যাঙ্গারে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রাখা কিছু মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়ে যায়।
এয়ার চিফ মার্শাল সিং জানান, ভারত এতটাই বেশি ক্ষতি করেছিল যে পাকিস্তান বুঝতে পারে সংঘাত চালিয়ে গেলে তাদের আরও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হবে। এর ফলস্বরূপ, পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করে এবং ১০ মে যুদ্ধাবস্থা শেষ হয়।
তিনি বলেন, ‘এই সাফল্যের পেছনে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার ভূমিকা ছিল। রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে কোনো বিধিনিষেধ ছিল না, যার কারণে সামরিক বাহিনী নিজেদের মতো করে পরিকল্পনা ও হামলা কার্যকর করতে পেরেছিল।’
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারত পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের নয়টি সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল, যেখানে শতাধিক সন্ত্রাসী নিহত হয়। ২২ এপ্রিলের পেহেলগাম হামলায় ২৬ জন নিরীহ মানুষ নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে এই বিশাল সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। এ.পি. সিং হামলার আগে ও পরের স্যাটেলাইট ছবি দেখিয়ে প্রমাণ দেন।
তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র স্যাটেলাইট ছবি নয়, আমরা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম থেকেও ভেতরের ছবি পেয়েছিলাম, যা দিয়ে মানুষকে বোঝানো সহজ হয়েছিল।’