Wednesday 30 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রাজনীতি নিষিদ্ধ বেরোবিতে শিবিরের নতুন কমিটি ঘোষণা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:২২ | আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:০৫

মো. সুমন সরকার এবং আব্দুর রাকিব মুরাদ।

রংপুর: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) সh ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির (শিবির) নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অমান্য করে ২০২৬ সেশনের জন্য ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সুমন সরকারকে সভাপতি এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর রাকিব মুরাদকে সেক্রেটারি করে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টায় ছাত্রশিবিরের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিবির সদস্য এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এই ঘোষণা ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

পোস্টে জানানো হয়, বেরোবি সদস্যদের নিয়ে এক সমাবেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক মো. মুতাসিম বিল্লাহ শাহেদীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম। সমাবেশে শাখা সভাপতি নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় সভাপতি স্বাক্ষরিত ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত সুমন সরকারকে শাখা সভাপতি ঘোষণা করা হয় এবং কেন্দ্রীয় সভাপতির প্রতিনিধি হিসেবে সাংবিধানিক শপথ পাঠ করান নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। পরে সদস্যদের পরামর্শের ভিত্তিতে আব্দুর রাকিব মুরাদকে সেক্রেটারি হিসেবে মনোনয়ন দেন নবনির্বাচিত সভাপতি সুমন সরকার।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৮তম সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকল ধরনের দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু কাগজে-কলমে এই নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ছাত্র সংগঠনগুলো বারবার কমিটি গঠন করে চলেছে। গত বছরের জুলাই-অক্টোবরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসে সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং ব্রাকসু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শিবিরের সমর্থিত শিক্ষার্থী পরিষদ প্যানেল ঘোষণা করে, যাতে সুমন সরকারও ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজনীতি নিষিদ্ধের বার্তা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংগঠনগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে ছাত্রদলও কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়, যা ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বাড়ায়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পরও শিবির এবং অন্যান্য সংগঠন গোপন বৈঠক ও সমাবেশ করে চলেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো এই কমিটি ঘোষণার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি, তবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের একাংশ মনে করেন, এই কার্যক্রম ক্যাম্পাসে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে এবং ছাত্রসংসদ নির্বাচনের দাবিকে জোরালো করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন জ্যৈষ্ঠ অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, বেরোবির মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত জুলাই অভ্যুত্থানের পর নেওয়া হয়, কিন্তু বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কমিটি গঠনের এই ঘটনা বেরোবির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার ধারাবাহিকতা। প্রশাসনকে সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টি মোকাবিলা করতে হবে, যাতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত না হয় এবং ক্যাম্পাসে শান্তি বজায় থাকে।

কমিটি গঠনের বিষয়ে ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীল কারোরই বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

রাজকীয় স্বাদের ছানার কোপ্তা কারি
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৫৪

আরো

সম্পর্কিত খবর