Monday 12 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

হাসিনা আমলে ইসলামী ব্যাংক ছিল একটি দলের অনুগত, এখন আর তা হবে না: গভর্নর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৬ মার্চ ২০২৬ ১৯:৪৩ | আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬ ২২:৫৬

বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান – ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ইসলামী ব্যাংক একটি নির্দিষ্ট দল ও গোষ্ঠীর প্রতি অনুগত হয়ে পড়েছিল। তবে এখন থেকে ব্যাংকটি আর কোনো দল, গ্রুপ বা পরিবারের হয়ে কাজ করতে পারবে না।

সোমবার (১৬ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান, চারজন বোর্ড সদস্য এবং ব্যাংকের শীর্ষ ১০ কর্মকর্তার সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে উপস্থিত একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গভর্নর বলেন, এক সময় ইসলামী ব্যাংক দেশের অন্যতম সেরা ব্যাংক ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ব্যাংকটিতে সুশাসনের বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেয়। ব্যাংকটির সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলেও তিনি জানান।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি চাকরিচ্যুত কয়েক হাজার কর্মকর্তা চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। তবে বৈঠকে গভর্নর এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এস আলম গ্রুপ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা আটটি ব্যাংকের মধ্যে চারটি ব্যাংক থেকেই প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভুয়া ও কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে জালিয়াতির মাধ্যমে এসব ব্যাংক থেকে ৯৩ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ইসলামী ব্যাংক থেকেই নেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদ ও তার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকগুলো থেকে প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে এসব ঋণ গ্রহণ করেন।

ইসলামী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকটির মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা। এক বছরে আমানত বেড়েছে ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি।

এ ছাড়া এজেন্ট ব্যাংকিং খাতে ব্যাংকটির আমানত বেড়ে বর্তমানে ২২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা বেশি।

গত এক বছরে ইসলামী ব্যাংক প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকা প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) সংগ্রহ করেছে। একই সময়ে ব্যাংকটির আমদানি বাণিজ্য ছিল ৬০ হাজার কোটি টাকা এবং রপ্তানি বাণিজ্য ছিল প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা।

বর্তমানে ব্যাংকটির মোট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি, যার মধ্যে গত এক বছরেই নতুন যুক্ত হয়েছেন প্রায় ৫০ লাখ গ্রাহক।

ব্যাংকটির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের প্রায় ৫৮ শতাংশ। তবে বছরের শেষ তিন মাসে খেলাপি ঋণ ১৪ হাজার ১৫৯ কোটি টাকা কমে বর্তমানে ৯২ হাজার ১১৫ কোটি টাকায় নেমে এসেছে, যা মোট ঋণের প্রায় ৪৭ শতাংশ।

সারাবাংলা/এসএ/এসআর
বিজ্ঞাপন

রাজকীয় স্বাদের ছানার কোপ্তা কারি
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৫৪

আরো