Wednesday 01 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ডেনমার্কের ‘ক্লাসেনস টিড’ সংস্কৃতি

ফারহানা নীলা সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:১৪

ডেনমার্কের স্কুলগুলোতে শুধু গণিত বা বিজ্ঞানের জটিল সমীকরণ শেখানো হয় না, বরং সেখানে গুরুত্ব দেওয়া হয় একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার ওপর। ডেনমার্কের শিক্ষা পদ্ধতির অন্যতম এক স্তম্ভ হলো ‘Klassens tid’ বা ‘ক্লাস টাইম’। ১৯৪০ সাল থেকে দেশটির স্কুলগুলোতে এই প্রথা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টা ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের এই বিশেষ ক্লাসে অংশ নিতে হয়, যা মূলত তাদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশের এক জাদুকরী হাতিয়ার।

সমমনাদের মিলনমেলা ও সহমর্মিতার চর্চা

এই ক্লাসের পরিবেশ তথাকথিত প্রথাগত ক্লাসরুমের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা গোল হয়ে বসেন। ক্লাসের মূল উদ্দেশ্য হলো একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা (Empathy) বৃদ্ধি করা। আধুনিক বিশ্বে যেখানে মানুষ আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে, সেখানে ডেনিশ শিশুরা ছোটবেলা থেকেই অন্যের দুঃখ বা সমস্যাকে নিজের মতো করে অনুভব করতে শেখে। এখানে কোনো নির্দিষ্ট পাঠ্যবই নেই, বরং জীবনের অভিজ্ঞতাই এখানে পাঠ্য।

বিজ্ঞাপন

ব্যক্তিগত ও সামাজিক সমস্যার সমাধান

ক্লাসেনস টিড চলাকালীন শিক্ষার্থীরা তাদের ব্যক্তিগত বা স্কুলের কোনো সমস্যা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করে। যদি কোনো শিক্ষার্থীর মনে হয় যে তাকে নিয়ে কেউ ঠাট্টা করছে বা সে কোনো বিষয়ে একাকী বোধ করছে, তবে সে তা সবার সামনে তুলে ধরে। পুরো ক্লাস মিলে সেই সমস্যার একটি গঠনমূলক সমাধান খোঁজার চেষ্টা করে। এই প্রক্রিয়া শিশুদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় এবং তারা বুঝতে শেখে যে যেকোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।

টিমওয়ার্ক ও নৈতিকতা গঠন

ডেনিশ শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতার চেয়ে সহযোগিতাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। ক্লাসেনস টিড-এ শিক্ষার্থীরা একসাথে বসে কেক ভাগ করে খায় বা বিভিন্ন দলগত কাজে অংশ নেয়। এর মাধ্যমে তাদের মধ্যে সততা, মহত্ত্ব এবং টিমওয়ার্কের মতো গুণাবলী গড়ে ওঠে। তারা বুঝতে শেখে যে সাফল্য মানে শুধু একা বিজয়ী হওয়া নয়, বরং সবাইকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।

সুখী জাতি গঠনে শিক্ষার ভূমিকা

ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্টের তালিকায় ডেনমার্ক বছরের পর বছর শীর্ষস্থানে থাকার পেছনে এই ‘ক্লাসেনস টিড’ প্রথার বিশাল অবদান রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। ছোটবেলা থেকেই যারা অন্যের কথা শুনতে এবং নিজের আবেগ প্রকাশ করতে শেখে, বড় হয়ে তারা কর্মক্ষেত্রে এবং পারিবারিক জীবনে অনেক বেশি স্থিতিশীল হয়। ডেনমার্কের এই মডেল আজ বিশ্বের অনেক দেশের জন্যই অনুপ্রেরণা, যা প্রমাণ করে যে একটি সুন্দর সমাজ গড়তে হলে শিক্ষার শুরুটা হতে হবে মানবিকতা দিয়ে।

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর