Sunday 16 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রাতের রাইডিংয়ে দুর্ঘটনা এড়ানোর উপায়

সারাবাংলা ডেস্ক
৭ জুন ২০২৬ ১৬:৪৫

দিনের তুলনায় রাতে মোটরসাইকেল চালানো অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ সেসঙ্গে বেশ চ্যালেঞ্জিংও। বিশেষ করে যারা পেশাগত প্রয়োজনে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ বাইক চালিয়ে যাতায়াত করেন, তাদের জন্য রাতের রাইডিংয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। সামান্য অসচেতনতার কারণেই ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা।

রাতে সুরক্ষিত থাকতে এবং নিরাপদ রাইডিং নিশ্চিত করতে রাইডারদের কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা উচিত। আসুন জানে নেই, রাতের বেলা নিরাপদে বাইক চালানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায়গুলো …

লাইটিং সিস্টেম শতভাগ সচল রাখুন

রাতের রাইডিংয়ের সবচেয়ে প্রধান হাতিয়ার হলো বাইকের আলো। রাস্তায় নামার আগেই নিশ্চিত করুন আপনার বাইকের হেডলাইট, টেইললাইট এবং ইন্ডিকেটর (টার্নিং সিগন্যাল) সঠিকভাবে কাজ করছে কি না।

বিজ্ঞাপন

হেডলাইটের কাচ নোংরা বা ঘোলা হয়ে থাকলে তা ভালো করে পরিষ্কার করে নিন, যাতে আলোর তীব্রতা পুরোপুরি রাস্তায় পড়ে।

ব্রেক লাইট ঠিকঠাক জ্বলছে কি না পরীক্ষা করুন, যেন পেছনের গাড়ি আপনার গতিবিধি বুঝতে পারে।

হাই-বিম ব্যবহারের সঠিক নিয়ম জানুন

রাতের বেলা হাই-বিম (High-beam) বা তীব্র আলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক হোন। ফাঁকা বা অন্ধকার রাস্তায় হাই-বিম ব্যবহার করলেও, সামনে থেকে কোনো গাড়ি বা বাইক আসতে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে লো-বিম (Low-beam) বা ডিপার ব্যবহার করুন। বিপরীত দিক থেকে আসা চালকের চোখে যেন আপনার বাইকের আলো ধাঁধিয়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখা একজন দায়িত্বশীল রাইডারের কর্তব্য।

রিফ্লেক্টিভ গিয়ার বা উজ্জ্বল পোশাক

অন্ধকারে অন্য গাড়িচালকরা যেন আপনাকে দূর থেকেই সহজে দেখতে পান, সেজন্য রাতে রাইড করার সময় উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরা উচিত।

সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি একটি রিফ্লেক্টিভ (Reflective) বা রেডিয়াম জ্যাকেট/ভেস্ট ব্যবহার করেন।

এছাড়া হেলমেট এবং বাইকের পেছনে রিফ্লেক্টিভ স্টিকার লাগিয়ে রাখলে দূর থেকেও বাইকের উপস্থিতি সহজে টের পাওয়া যায়।

হেলমেটের ভিসর পরিষ্কার ও স্বচ্ছ রাখুন

রাতে রাইড করার সময় হেলমেটে কখনো ডার্ক, স্মোকি বা রঙিন ভিসর (গ্লাস) ব্যবহার করবেন না। রাতের জন্য সবসময় স্বচ্ছ বা ক্লিয়ার ভিসর ব্যবহার করা উচিত। ভিসরে কোনো স্ক্র্যাচ বা ময়লা থাকলে রাতের আলো সেখানে প্রতিফলিত হয়ে চোখের সামনে ঝাপসা অনুভূতির সৃষ্টি করতে পারে। তাই রাইড শুরুর আগে হেলমেটের গ্লাসটি নরম সুতি কাপড় দিয়ে মুছে নিন।

গতি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন

রাতে রাস্তার গর্ত, স্পিডব্রেকার বা রোড ডিভাইডারগুলো দিনের মতো স্পষ্ট দেখা যায় না। তাই দিনের স্বাভাবিক গতির চেয়ে রাতে বাইকের গতি কিছুটা কমিয়ে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। একই সাথে সামনের গাড়ির একদম পেছনে না গিয়ে পর্যাপ্ত নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন, যাতে সামনের গাড়িটি হুট করে ব্রেক করলেও আপনি বাইক থামানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় ও জায়গা পান।

ক্লান্তি ও ঝিমুনি আসলে বিরতি নিন

দিনভর কর্মব্যস্ততার পর রাতে বাইক নিয়ে ফেরার সময় শরীরে ক্লান্তি ভর করা স্বাভাবিক। রাইড করার সময় চোখে ঘুম ঘুম ভাব এলে বা অতিরিক্ত ক্লান্তি লাগলে জোর করে বাইক চালাবেন না।এজন্য যেকোনো নিরাপদ স্থানে বাইক থামিয়ে চোখে-মুখে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিন। সেসঙ্গে প্রয়োজনে একটু চা খেতে পারেন অথবা অন্তত ৫-১০ মিনিটের একটি ছোট বিরতি নিন।

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি