সুস্থতা মহান আল্লাহর দেওয়া অন্যতম সেরা নেয়ামত। তবে মানবজীবনে পরীক্ষা কিংবা অসতর্কতাবশত নানা রকম কঠিন ও দুরারোগ্য ব্যাধি হানা দিতেই পারে। ইসলাম রোগব্যাধিকে কেবল শারীরিক কষ্ট হিসেবে দেখে না, বরং একে গুনাহ মাফের মাধ্যম হিসেবেও গণ্য করে। রোগ নিরাময়ে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বা ওষুধের ভূমিকা যেমন অনস্বীকার্য, ঠিক তেমনি মুমিনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো আল্লাহর দরবারে দোয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠিন ও প্রাণঘাতী রোগব্যাধি থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে এবং যেকোনো ধরণের অসুস্থতা থেকে আরোগ্য লাভে উম্মতদের বিশেষ কিছু দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন।
আসুন জেনে নেই, বিশেষ সেই দোয়া…
কঠিন ও সংক্রামক ব্যাধি থেকে সুরক্ষার দোয়া
শ্বেতী, কুষ্ঠ, পক্ষাঘাত বা যেকোনো ধরণের মহামারি ও দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে নিজেকে হেফাজতে রাখতে নবীজি (সা.) নিয়মিত এই দোয়াটি পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন:
দোয়া
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাসি, ওয়াল জুনুনি, ওয়াল জুজামি, ওয়া সাইয়্যিয়িল আসক্বাম।
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে শ্বেতী, উন্মাদনা, কুষ্ঠরোগ এবং সব ধরনের কঠিন ও দূরারোগ্য ব্যাধি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ (সুনানে আবু দাউদ)
রোগমুক্তির বিশেষ দোয়া (অন্ধ ব্যক্তির আমল)
হাদিসে বর্ণিত আছে, উসমান ইবনে হুনাইফ (রা.) বলেন, একবার এক দৃষ্টিহীন ব্যক্তি নবীজি (সা.)-এর দরবারে এসে তার চোখের জ্যোতি ফিরে পাওয়ার জন্য দোয়ার আবেদন জানান। তখন রাসুল (সা.) তাকে উত্তমরূপে অজু করে এই দোয়াটি পাঠ করার নির্দেশ দেন…
দোয়া
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ওয়া আতাওয়াজ্জাহু ইলাইকা বিনাবিইয়িকা মুহাম্মাদিন নাবিইয়ির রাহমাহ, ইয়া মুহাম্মাদু ইন্নি তাওয়াজ্জাহতু বিকা ইলা রব্বি ফি হাজাতি হাজিহি লিতুকদ্বা লি, আল্লাহুম্মা ফাশাফফি’হু ফিইয়াহ।
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছেই প্রার্থনা করছি এবং আপনার দয়ার নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর উসিলায় আপনার দিকেই মনোনিবেশ করছি। হে মুহাম্মদ (সা.)! আমি আমার এই প্রয়োজন পূরণের জন্য আপনার মাধ্যমে আমার প্রতিপালকের দিকে ধাবিত হলাম, যেন আমার এই অভাব দূর করা হয়। হে আল্লাহ! আমার ব্যাপারে তার সুপারিশ কবুল করুন।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৭৮)
যে কোনো কঠিন রোগ বা মহামারির সময়ে ভেঙে না পড়ে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা মুমিনের প্রধান বৈশিষ্ট্য। মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী, রোগমুক্তির জন্য প্রথমত অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করতে হবে, এবং দ্বিতীয়ত আরোগ্যের একমাত্র মালিক মহান আল্লাহর দরবারে বিনীতভাবে মোনাজাত করতে হবে। পূর্ণ বিশ্বাস ও পবিত্র অন্তরে ওপরের দোয়াগুলো নিয়মিত আমল করলে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে সব ধরণের জটিল ব্যাধি ও মানসিক কষ্ট থেকে মুক্তি দান করেন।