বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের অস্থিতিশীল বাজার এবং ক্রমবর্ধমান যাতায়াত খরচের এই সময়ে বাইকের তেল সাশ্রয় করা সবার জন্যই বড় একটি চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভরশীল, তাদের আয়ের একটি বড় অংশই চলে যায় জ্বালানি কিনতে। তবে রাইডিংয়ের কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলে এবং বাইকের সামান্য যত্ন নিলেই তেলের খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব।
আসুন জেনে নেই, মোটরসাইকেলের মাইলেজ বাড়ানোর সহজ কৌশল…
এক্সিলারেটরে নিয়ন্ত্রণ ও স্মুথ রাইডিং
হুট করে গতি বাড়ানো বা ঘনঘন কড়া ব্রেক করার অভ্যাস ইঞ্জিনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। তাই বাইক স্টার্ট দেওয়ার পর ধীরে ধীরে গতি বাড়ান। মসৃণভাবে বাইক চালালে জ্বালানি খরচ অনেক কমে আসে।
সঠিক গতি ও গিয়ারের ভারসাম্য
ইঞ্জিনের আরপিএম (RPM) অনুযায়ী সঠিক গিয়ার ব্যবহার করা জরুরি। কম গিয়ারে রেখে জোরপূর্বক বেশি গতিতে বাইক চালালে প্রচুর তেল অপচয় হয়। সাধারণত প্রতি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতি বজায় রেখে টপ গিয়ারে বাইক চালালে সবচেয়ে সেরা মাইলেজ পাওয়া যায়।
টায়ারের হাওয়া ঠিক রাখা
টায়ারে বাতাস কম থাকলে চাকার ওপর ঘর্ষণ বাড়ে, ফলে বাইক টেনে নিতে ইঞ্জিনের দ্বিগুণ শক্তি খরচ হয় এবং তেল বেশি ‘খায়’। তাই সপ্তাহে অন্তত এক থেকে দুইবার টায়ারের প্রেশার মেপে সঠিক মাত্রায় হাওয়া রাখুন।
ট্রাফিক জ্যামে ইঞ্জিন বন্ধ রাখা
যেকোনো সিগন্যাল বা জ্যামে যদি ৩০ সেকেন্ডের বেশি দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তবে অলসভাবে ইঞ্জিন চালু না রেখে বন্ধ করে দিন। দীর্ঘক্ষণ স্টার্ট অন করে বাইক দাঁড় করিয়ে রাখলে প্রচুর জ্বালানি অপচয় হয়।
এয়ার ফিল্টার ও নিয়মিত সার্ভিসিং
অপরিষ্কার বা জ্যাম হয়ে যাওয়া এয়ার ফিল্টার ইঞ্জিনে পর্যাপ্ত বাতাস পৌঁছাতে বাধা দেয়, যার ফলে জ্বালানি দহন ঠিকমতো হয় না এবং ইঞ্জিন বেশি তেল টানে। তাই নিয়ম মেনে বাইক সার্ভিসিং করানোর পাশাপাশি স্পার্ক প্লাগ ও এয়ার ফিল্টার সবসময় পরিষ্কার রাখুন।
চেইনের যত্ন ও অতিরিক্ত ওজন পরিহার
বাইকের ড্রাইভ চেইন শুকনো বা খসখসে থাকলে চাকা ঘুরতে বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়। তাই নিয়মিত চেইন পরিষ্কার করে লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করুন। এছাড়া মোটরবাইকে অপ্রয়োজনীয় ভারী জিনিসপত্র বহন করা থেকে বিরত থাকুন, কারণ ওজন যত কম হবে, তেল তত কম খরচ হবে।
সংক্ষিপ্ত পরামর্শ
সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিমিত গতিতে বাইক চালানোই আপনার পকেটের টাকা বাঁচানোর সবচেয়ে কার্যকরী উপায়।