দৈনন্দিন জীবনে পানি পানের ক্ষেত্রে বসে পান করাকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও আদব হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে ব্যস্ততা, স্থানের অভাব কিংবা কাজের প্রয়োজনে দাঁড়িয়ে পানি পান করা যাবে কি না, এ নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় থাকে।
আসুন জেনে নেই, পবিত্র হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের বিশ্লেষণে এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা…
বসে পানি পানের গুরুত্ব ও নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত হাদিস
সাধারণ পরিস্থিতিতে বসে পানি পান করাই সবচেয়ে উত্তম আমল। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) দাঁড়িয়ে পান করার ব্যাপারে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন (সহিহ মুসলিম: ২০২৬)। এই নির্দেশনার মাধ্যমে স্বাভাবিক অবস্থায় বসে পান করার প্রতি বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে।
দাঁড়িয়ে পানের ক্ষেত্রে হাদিসের আমল
অন্যান্য সহিহ বর্ণনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ক্ষেত্রবিশেষে নিজেও দাঁড়িয়ে পান করেছেন…
জমজমের পানি: হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) জমজমের পানি দাঁড়িয়ে পান করেছিলেন (সহিহ বুখারি: ১৬৩৭)।
ঝুলন্ত পাত্র: হজরত কাবশা (রা.) জানান, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁদের ঘরে ঝুলানো একটি পাত্র থেকে দাঁড়িয়ে পানি পান করেন (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩৪২৩)।
উভয় অভ্যাসের প্রমাণ: আমর ইবন শুয়াইব (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুল (সা.)-কে বসে ও দাঁড়িয়ে, উভয় অবস্থাতেই পান করতে দেখেছেন (সুনানে তিরমিজি: ১৮৮৩)।
ওলামায়ে কেরামের সমন্বিত সিদ্ধান্ত
হাদিস সমূহের মধ্যে সমন্বয় করে ফিকহবিদগণ মত প্রকাশ করেছেন যে, স্বাভাবিক অবস্থায় বসে পানি পান করা মোস্তাহাব। কোনো ওজর ছাড়া দাঁড়িয়ে পান করা ‘মাকরুহে তানজিহি’ বা অনুত্তম হলেও তা হারাম বা গুনাহ নয়। তবে ভিড়, স্থানের সংকট বা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণে দাঁড়িয়ে পান করলে তাতে কোনো বাধা নেই।
জমজমের পানি পানের ভুল ধারণা
অনেকের ধারণা জমজমের পানি কেবল দাঁড়িয়েই পান করতে হয়। তবে আলেমদের মতে এটি কোনো বাধ্যবাধকতা নয়। তৎকালীন ভিড় ও পরিস্থিতির কারণে রাসুল (সা.) দাঁড়িয়ে পান করেছিলেন। তাই জমজমের পানি বসে বা দাঁড়িয়ে, উভয়ভাবেই পান করা পুরোপুরি শরিয়তসম্মত।