Thursday 27 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

অবৈধ ডিজিটাল ঋণের ফাঁদ, ৩১ অ্যাপের বিষয়ে বিএফআইইউ’র সতর্কতা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৭ আগস্ট ২০২৬ ১৯:২২

– কোলাজ প্রতীকী ছবি

ঢাকা: অনুমোদনহীন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালিত অবৈধ ঋণ কার্যক্রম থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট’ (বিএফআইইউ)। একই সঙ্গে এসব প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ না নেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

বিএফআইইউ জানিয়েছে, সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক গ্রুপ ও অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে সহজ শর্তে দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অনুমোদনহীন ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিষয়টি বিএফআইইউর নজরে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসব অননুমোদিত ডিজিটাল ঋণদাতা অ্যাপ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য, মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত যোগাযোগের তথ্য, ছবি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছে। পরে ঋণ আদায়ের নামে গ্রাহকদের ওপর অযাচিত চাপ প্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মতো কর্মকাণ্ড করা হচ্ছে।
এ ধরনের কার্যক্রমের ফলে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, অনুমোদনহীন অর্থ লেনদেন, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং ঋণ আদায়ের নামে হয়রানির ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছে বিএফআইইউ। এতে মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা উভয়ই ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ঋণ প্রদান একটি নিয়ন্ত্রিত আর্থিক কার্যক্রম। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন এবং প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো অনুসরণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা ডিজিটাল মাধ্যমে ঋণ প্রদান করা বৈধ নয়।
বিএফআইইউ বলেছে, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে এসব মাধ্যমে পরিচালিত ঋণ কার্যক্রম থেকে প্রতারণা, আর্থিক অপরাধ ও অর্থপাচারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না থাকা, লেনদেনের স্বচ্ছতা না থাকা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ার কারণে এ ধরনের কার্যক্রম সাধারণ মানুষের আর্থিক ও ব্যক্তিগত ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বিএফআইইউর বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ২(শ)(৫) ধারা অনুযায়ী প্রতারণামূলকভাবে ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ মানি লন্ডারিংয়ের একটি সম্পৃক্ত অপরাধ। একই আইনের ৪ ধারার আওতায় এ ধরনের অপরাধ শাস্তিযোগ্য।
ফলে অনুমোদনহীন ডিজিটাল ঋণ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত না হওয়ার জন্য সবাইকে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

বিএফআইইউ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৩১টি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তাদের নজরে এসেছে, যেগুলোর মাধ্যমে অনুমোদনহীন ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। এসব প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ নিয়ে প্রতারিত না হওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে।

তবে বিজ্ঞপ্তিতে ৩১টি অ্যাপের নামের তালিকা প্রকাশ না করে এসব অনুমোদনহীন প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ না নেওয়ার বিষয়ে সাধারণ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ঋণের প্রলোভনে অপরিচিত কোনো অ্যাপ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত তথ্য না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিএফআইইউ।

বিশেষ করে পরিচয়পত্রের তথ্য, ব্যাংক হিসাবের তথ্য, মোবাইল ফোনে থাকা সংবেদনশীল তথ্য, ছবি কিংবা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য এসব অ্যাপকে না দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে ঋণ দেওয়ার আগে কোনো অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্ম যদি অগ্রিম অর্থ, নিবন্ধন ফি, প্রসেসিং ফি কিংবা অন্য কোনো অর্থ দাবি করে, সেক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

অনুমোদনহীন কোনো প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ নিয়ে কেউ প্রতারিত হলে কিংবা এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনাকারী কোনো অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপ, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য জানা থাকলে বিএফআইইউ-কে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।