সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট সেবা বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া এবং দুবাই, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত প্রবাসীদের ব্যক্তিগত তথ্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে— এমন অভিযোগ তুলে তা বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রিয়াদে বসবাসরত বাংলাদেশিরা।
সম্প্রতি রিয়াদের হোটেল ডি প্যালেসের হলরুমে এই সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।
এতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কমিউনিটি নেতা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ, মোহাম্মদ শাহজালাল ভুট্টো ও সালাউদ্দিন আহমেদ ভূইয়া। রিয়াদে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যম কর্মীরাও এখানে উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আয়োজকেরা বলেন, ‘সৌদি আরবে প্রায় ৪০ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। পাসপোর্ট সেবা সহজ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রাদেশিক অঞ্চলে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’ হঠাৎ করে ভিনদেশিদের হাতে প্রবাসীদের পাসপোর্ট সেবা তুলে দিলে বাংলাদেশিরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
তারা আরও বলেন, ‘আজকাল যুদ্ধ শুধু অস্ত্র দিয়ে হয় না, ডেটা দিয়েও হয়। একটি দেশের নাগরিক ডাটাবেজ মানে সেই দেশের ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব। এই সার্বভৌমত্ব যদি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যায়, তা কার্যত ডিজিটাল উপনিবেশ তৈরির মতো ভয়ংকর সিদ্ধান্ত।’
আয়োজকদের দাবি, প্রবাসী সেবা কেন্দ্রগুলোতে ই-পাসপোর্টের বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্টের কার্যক্রম চলমান থাকলে প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট নিয়ে জটিলতা তৈরি হতো না।
বর্তমানে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এই পাইলট প্রকল্পের কার্যক্রম দেয়ার পাঁয়তারা চলছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। আয়োজকদের আশঙ্কা, নিজ দেশের পাসপোর্ট সেবা ভিনদেশিদের হাতে তুলে দিলে পাসপোর্টের নিরাপত্তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি তথ্য পাচারসহ বিভিন্ন হুমকির মুখে পড়তে পারেন বাংলাদেশিরা।
দেশের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং প্রবাসীদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে থাকলেও তা থেকে সরে আসার দাবি জানিয়েছেন প্রবাসী সচেতন মহল। তাদের মতে, ভিনদেশিদের হাতে পাসপোর্ট সেবা না দিয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রম চালু রাখলে একদিকে কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে দেশের উন্নয়নের চাকা সচল থাকবে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহও বাড়বে।
ভিনদেশিদের হাতে প্রবাসীদের পাসপোর্ট সেবা তুলে না দেয়ার দাবিতে গণমাধ্যমকর্মীদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দেলোয়ার হোসেনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। এ সময় রাষ্ট্রদূত স্মারকলিপিটি পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন বলে গণমাধ্যমকর্মীদের আশ্বস্ত করেন।